ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, অগাস্ট ২৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আদালতে হট্টগোলের মামলার আসামি বিএনপি সমর্থক আইনজীবী এম ইউ আহম্মেদের মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম একই কারণে সোমবার বিক্ষোভ সমাবেশ করবে।

শুক্রবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, “এম ইউ আহম্মেদের মৃত্যু অস্বাভাবিক। তাকে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছিলো। সেই নির্যাতনেই আজ তার মৃত্যু হয়েছে।”

“আমরা পুলিশের এ রকম বর্বরোচিত নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও কালো ব্যাজ ধারণ করবো,” যোগ করেন তিনি।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীতে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি সোমবার আইনজীবীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

দুপুরে ১টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালে সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজউদ্দিন (এম ইউ) আহম্মেদ মারা যান। আদালতে হট্টগোলের মামলায় গত ১১ অগাস্ট সেগুন বাগিচার বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্রেপ্তারের পর তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ বলে আসছে, তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিলো।

মরদেহ বারডেমে, শনিবার জানাজা

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিন্টু রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকের বলেন, শেরেবাংলা নগর থানার ওসি বরাবর এম ইউ আহম্মেদের স্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশের ময়নাতদন্ত হয়নি।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিবাবের সদস্যরা লাশ নিয়ে যান বলে জানান শেরে বাংলানগর থানার ওসি জিয়াউজ্জামান।

আহম্মেদের ভাগ্নে আব্দুর রাজ্জাক জানান, “ওসি বরাবর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬টার দিকে লাশ আমাদের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তার লাশ বারডেমে স্থানান্তর করা হয়েছে।”

শনিবার সকাল ১১টায় হাইকোর্ট চত্বরে আহম্মেদের প্রথম জানাজা হবে বলেও জানান তিনি।

স্কয়ারে আইনজীবীদের বিক্ষোভ

এদিকে, আহম্মেদের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিএনপি সমর্থক অনেক আইনজীবী স্কয়ার হাসপাতালে ছুটে যান। প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হকও যান সেখানে।

সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোনো দলের নই। এক জন আইনজীবীর মৃত্যুর খবর পেয়ে এখানে এসেছি। এ ধরনের মৃত্যু দুঃখজনক।”

আহম্মেদের মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন ব্যারিস্টার রফিক।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ বলেন, “একজন নিরাপরাধ এবং নিরীহ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আমরা তার আগাম জামিনের আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদন আদালতে বিবেচনাধীন অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো।”

সাধারণত আদালতে কারো জামিন আবেদন বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় কাউকে গ্রেপ্তার করা না হলেও পুলিশ সেই রীতি ভঙ্গ করে আহম্মেদকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেন মওদুদ।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খোন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “আমরা মনে করি, বর্তমান সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে উঠছিলো, তাকে স্তব্ধ করতেই এম ইউ আহম্মেদকে হত্যা করা হয়েছে।”

“স্কয়ার হাসপাতালে পুলিশ না থাকলেও তাকে গ্রেপ্তারের পর আমরা তার জামিন পাইনি, সুতরাং পুলিশ হেফাজতেই তার মৃত্যু হয়েছে”, বলেন তিনি।

বিকেলে আহম্মেদের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্কয়ার হাসপাতালে গিয়ে আইনজীবীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে বিকাল ৫টার দিকে হাসপাতালে যান। তার সঙ্গে কয়েকজন পুলিশও ছিলেন। তাকে দেখে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা হৈ চৈ করে উঠলে পুলিশ পাহারায় তিনি লিফটে উঠে পড়েন। তখন এক দল আইনজীবীও হৈ চৈ করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে উঠে পড়েন। তবে পুলিশের বাধায় তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে যেতে পারেননি।

মাহবুবে আলম সিসিইউতে ঢোকার পর হাসপাতালের ফটকে অবস্থান নেন আইনজীবীরা। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন।

প্রয়াত আইনজীবীকে দেখে আধা ঘণ্টা পর পুলিশ পাহারাতেই হাসপাতাল ছাড়েন মাহবুবে আলম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএন/আরএম/এএল/জেকে/২০১৭ ঘ.