ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, অগাস্ট ২৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশে বার্ড ফ্লু আবার ছড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা (এফএও)।

এশিয়া ও অন্যান্য স্থানে বার্ড ফ্লুর জন্য দায়ী এইচ৫এন১ ভাইরাসের আবার প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে উল্লেখ করে এফএও সোমবার বলেছে, এতে বাংলাদেশ, চীন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফএও।

২০০৩ সালে বার্ড ফ্লু প্রথম দেখা দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচশ’ ৬৫ জন মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে তিনশ’ ৩১ জন।

গত বছর বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ দেখা দেয়।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জাতিসংঘের এ সতর্কতার যৌক্তিকতা রয়েছে।

“এইচ৫এন১, এইচ১এন১, এইচ৩এন২ ও এইচ৯এন২-এ চার ধরনের ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এখানে এগুলোর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।”

তবে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আগেভাগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘পোল্ট্রি খামারে জীবাণু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল’

এফএও জানিয়েছে, ২০০৬ সালে এইচ৫এন১ ভাইরাসের সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের সময় বিশ্বের ৬৩টি দেশে তা দেখা দিলেও বেশিরভাগ দেশেই এ ভাইরাস থেকে মুক্ত হয়। কিন্তু পাখির স্থানান্তরের কারণে ২০০৮ সাল থেকে এটা আবারো পোষা ও বন্য পাখিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশের পোল্ট্রি খামারে এ ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, “আমাদের পোল্ট্রি খামারে জীবাণু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় আমরা এ ভাইরাস থেকে মুক্ত হতে পারিনি।”

শনিবার চুয়াডাঙ্গায় এ ভাইরাস সনাক্তের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “এখনো আমরা অস্বাভাবিক সময়ে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করছি।”

বার্ড ফ্লুর কারণে চুয়াডাঙ্গায় ২১ হাজার মুরগী নিধন করা হয়।

লুব্রোথ বলেন, “পাখির মাধ্যমে এ ভাইরাস কোনো অঞ্চলে যেতে পারে। কিন্তু পোল্ট্রি খামারে মানুষের কার্যক্রম ও পোল্ট্রি বিক্রির মাধ্যমে এর বিস্তৃতি ঘটে।

“সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগ্রহণ এবং ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় প্রস্তুতি জরুরি।”

আইইডিসিআর’র পরিচালক বলেন, এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রাণি সম্পদ বিভাগকে ‘সক্রিয়’ হতে হবে।

এ ভাইরাস সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে পোল্ট্রি হাঁস-মুরগী অনেক সিদ্ধ করে খাওয়ার এবং হাত ও মুখ প্রায়ই সাবান দিয়ে ধোয়াসহ ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

‘মানবদেহে সংক্রমণের ঝুঁকি কম’

মানবদেহে এইচ৫এন১ ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুসহ বড় ধরনের অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।

আইইডিসিআর’র পরিচালক বলেন, আমরা ভাগ্যবান যে বাংলাদেশে এইচ৫এন১ ভাইরাসের যে ক্যাটাগরির (ক্ল্যাড দুই দশমিক দুই) প্রাদুর্ভাব ঘটেছে তা মানবদেহে সংক্রমণের ঝুঁকি কম।

২০০৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম প্রাদুর্ভাবের পর এখন পর্যন্ত তিনজনের দেহে এ ভাইরাস ধরা পড়েছে।

এফএও’র প্রধান পশুরোগ বিশেষজ্ঞ হুয়ান লুব্রোথ বলেছেন, “২০০৪ থেকে ২০০৮ সালে এ ভাইরাস কমে আসার যে ধারা ছিলো তা থেকে বিচ্যুতি এটাই প্রমাণ করে যে, এবার বর্ষা ও শীতে এইচ৫এন১ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেবে।”

এ ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে যে টিকা ব্যবহৃত হয় চীন ও ভিয়েতনামে তা কার্যকর না হওয়ায় তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এফএও।

ভিয়েতনামে ওই ধরনের ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে পার্শ্ববর্তী দেশ ক্যাম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াও তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ক্যাম্বোডিয়ায় চলতি মাসে এ ভাইরাস সংক্রমণে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এ বছর সেখানে আটজনের শরীরে এ ভাইরাস ধরা পড়েছে।

এফএও বলেছে, স¤প্রতি ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, নেপাল ও মঙ্গোলিয়ায় এ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা গেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমআরএইচ/এনআইএইচ/পিকেএস/বিডি/এএইচ/পিডি/২৩৪৫ ঘ.