ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে, এতে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ভূমিকা রেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়- বলছে ভারতের পত্রিকা আনন্দবাজার।

পত্রিকাটির বৃহস্পতিবারের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির কিছু কিছু বিষয় নিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদ্বেগ ছিল, তিনি চাইছিলেন চুক্তির ফলে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ যেন কোনোভাবেই বিঘিœত না হয়।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শংকর মেননের সঙ্গে এক বৈঠকে মমতার উদ্বেগের মীমাংসা হয়েছে- উল্লেখ করে পত্রিকাটি বলেছে, খসড়া চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন মমতা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ৬ সেপ্টেম্বরের সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে স¤প্রতি ঢাকা সফর করে গেছেন উপদেষ্টা শিব শংকর মেনন। মনমোহনের সঙ্গে মমতারও বাংলাদেশ আসার কথা।

এ প্রসঙ্গে আনন্দবাজার বলেছে, তিনি মমতাকে বলেন, তাকে (মমতা) দেখার জন্য বাংলাদেশে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক প্রসঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায় মেননকে জানান, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক বহু দিনের। হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন না তখনও সেই সম্পর্ক অটুট ছিল।

মমতার উদ্বেগ বিষয়ে বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রাজনীতি বিষয়ক কমিটির বৈঠকেও আলোচনা হয়। বৈঠকে মনমোহন সিং ছাড়াও প্রণব মুখোপাধ্যায়, কপিল সিব্বল, পবন বনশল, ফারুক আবদুল্লা, পি চিদাম্বরম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী পবন বনশল ঢাকা আসবেন- এ কথা উল্লেখ করে আনন্দবাজার বলেছে, এখানে দু’দেশের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে এই চুক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

‘৬ সেপ্টেম্বর মনমোহন মমতাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় চূড়ান্ত চুক্তি ঘোষণা করবেন।’

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদীর সংখ্যা ৫৪। এই সব নদীর পানিবণ্টন নিয়ে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে দু’দেশের নদী কমিশন।

গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয় ভারতের সঙ্গে।

যেভাবে বণ্টন

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী শিলিগুড়ি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের গজলডোবা পয়েন্টে তিস্তায় প্রবাহিত পানির পরিমাণ হিসাব করে দু’দেশের মধ্যে পানিবণ্টন হবে।

‘৪৬০ কিউসেক হারে পানির সঞ্চয় রেখে বাকি পানির ৫২ শতাংশ নেবে ভারত, ৪৮ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ।’

পানি সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার দাবি প্রসঙ্গে পত্রিকাটি বলেছে, সেই খুঁটিনাটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

‘তবে আপাতত এই ৫২-৪৮ বণ্টনের ভিত্তিতেই ১৫ বছর মেয়াদি একটি অন্তর্র্বতীকালীন চুক্তির কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পানির প্রবহমানতা পর্যবেক্ষণ করে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে।’

মেনন-মমতা বৈঠকে ফেনি নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন থেকে দু’দেশই এই নদী থেকে ৬০ কিউসেক হারে পানি তুলবে। ভারত অবশ্য প্রথমে ৭০ কিউসেক হারে পানির দাবি জানিয়েছিল। তাতে বাংলাদেশ আপত্তি করে।

উত্তর সিকিমের সো লামো হ্র্রদ থেকে শুরু হয়ে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি হয়ে তিস্তা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ১২৪ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তিস্তা মিশেছে ব্রহ্মপুত্রে।

তিস্তা প্রকল্পের লক্ষ্য নানামুখি

তিস্তা প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ভারত, বাংলাদেশে ব্যারাজ তৈরি করে সারাবছর সেচের জন্য পানির ব্যবস্থা করা। এছাড়া অতিরিক্ত পানি আটকে দু’দেশে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলাও এর উদ্দেশ্য। এর সঙ্গে রয়েছে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যও।

এ প্রকল্পে যেসব ব্যারাজ রয়েছে সেগুলি হলো বাংলাদেশের লালমনিরহাটে ডালিয়া ব্যারাজ। পশ্চিমবঙ্গে গজলডোবায় তিস্তা ব্যারাজ, ফুলবাড়িেত মহানন্দা ব্যারাজ এবং চোপড়ায় ডাহুক ব্যারাজ।

বাংলাদেশে তিস্তা দিয়ে ২০ হাজার কিউসেক হারে পানি প্রবাহিত হওয়ার কথা থাকলেও শুকনো মৌসুমে ৪০০ কিউসেক হারে পানি পাওয়া যাচ্ছে- বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ রয়েছে বলে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

‘এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে গজলজোবা বাধের কাছে নদীর প্রবাহ পর্যবেক্ষণ এবং পানিবণ্টন করার জায়গাগুলি বৈজ্ঞানিকভাবে চিহ্নিত করতে সম্মত হয়েছে ভারত।’

তিস্তা বাধ প্রকল্প ভারতের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পানিসেচ প্রকল্প।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিডি/১৮০০ ঘ.