ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

কলকাতা, সেপ্টেম্বর ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে আসন্ন সফরে আসছেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বরাত দিয়ে মমতার ঘনিষ্ট একটি সূত্র রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানায়, পশ্চিমবঙ্গে বন্যা, আসন্ন দূর্গা পূজা এবং তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ‘আপত্তির’ কারণে মমতা বাংলাদেশে যাচ্ছেন না।

মমতা ইতোমধ্যে চিঠি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছে সূত্রটি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার ঢাকা আসছেন মনমোহন।

মমতা ছাড়াও তার সঙ্গে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সরকার, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গোগোই ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালথানহাওলার আসার কথা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অণুবিভাগের মহা পরিচালক শামিম আহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মমতা আসছেন না এমন কোনো তথ্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা, সীমানা বিরোধ নিরসন এবং বাণিজ্য স¤প্রসারণের মতো বিষয়গুলোই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন এবং বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন ইতোমধ্যে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অবশ্য ভারতের বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের অসম গণ পরিষদ (এজিপি) তিস্তা চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নদীর পানি বণ্টন নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন মমতাও। তিনি চাইছিলেন চুক্তির ফলে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ যেন কোনোভাবেই বিঘিœত না হয়।

এই পরিস্থিতিতে শিব শংকর মেনন গত বুধবার কলকাতা গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং চুক্তির বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। ওই বৈঠকের পর ৩০ অগাস্ট কলকাতার পত্রিকা আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, মমতা খসড়া চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন।

অবশ্য খসড়া চুক্তিতে পানি বণ্টন নিয়ে কী লেখা আছে, তা নিয়ে দুই রকম খবর এসেছে গণমাধ্যমে।

আনন্দবাজারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী শিলিগুড়ি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের গজলডোবা পয়েন্টে তিস্তায় প্রবাহিত পানির পরিমাণ হিসাব করে দু’দেশের মধ্যে পানিবণ্টন হবে। ৪৬০ কিউসেক হারে পানির সঞ্চয় রেখে বাকি পানির ৫২ শতাংশ নেবে ভারত, ৪৮ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ।

কিন্তু পরদিনই ভারতের লোকসভার সদস্য আবু হাসেম খান চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তার পানির ৭৫ শতাংশ ভারত নেবে এবং ২৫ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে।

উত্তর সিকিমের সো লামো হ্র্রদ থেকে শুরু হয়ে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি হয়ে তিস্তা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ১২৪ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তিস্তা মিশেছে ব্রহ্মপুত্রে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদীর সংখ্যা ৫৪। এই সব নদীর পানিবণ্টন নিয়ে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে দু’দেশের যৌথ নদী কমিশন। মনমোহন সিংয়ের আসন্ন সফরে ফেনী নদীর পানি বণ্টন নিয়েও চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/বিএম/পিসি/জেকে/১৯৪০ ঘ.