ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় যেসব চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে- তার খসড়া সোমবারই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী।

রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা, সীমানা বিরোধ নিরসন এবং বাণিজ্য স¤প্রসারণের মতো বিষয়গুলোই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।

দুই দিনের এই সফরে মঙ্গলবার ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে মনমোহন সিংয়ের। বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের পাঁচটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও তার সঙ্গে থাকছেন।

গওহর রিজভী বলেন, “দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে যেসব চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে- সেগুলো আগামী কালের (সোমবার) বৈঠকেই (মন্ত্রিসভার) অনুমোদন করাতে হবে।”

“আমরা মনমোহন সিংয়ের এই সফর থেকে ভালো ফল আশা করছি,” যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর জানুয়ারিতে দিল্লী সফরের সময়ই মনমোহন সিংকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানান। ওই সফরে দুই প্রধানমন্ত্রী যে যৌথ ঘোষণা দেন, তার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হবে মনমোহনের এবারের সফরে।

গওহর রিজভী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় এগিয়ে নিতে দুই প্রধানমন্ত্রী এবারো একটি যৌথ ঘোষণা দেবেন। এ বিষয়ে যৌথ ঘোষণায় বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।

মনমোহন সিংয়ের এই সফরে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টন ছাড়াও ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার বিষয়ে মোট তিনটি চুক্তি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া স্থল সীমা নির্ধারণ ও বাঘ সংরক্ষণের বিষয়ে দুটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সুন্দরবনের প্রণিবৈচিত্র সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও পশ্চিমবঙ্গের দূরদর্শনের মধ্যে সহযোগিতা, মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং ঢাকা ও দিল্লীর জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারকেও স্বাক্ষর করবেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।

যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীগুলোর যৌথ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়ই একটি ঘোষণা আসতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিপোর ডটকমকে বলেন, “দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী আছে। আর বাংলাদেশ এসব নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনা চায়।”

ভারত বাংলাদেশের উজানে এসব নদীর অনেকগুলোয় বাঁধ দেওয়ায় পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

“যৌথ ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে বাংলাদেশ পানির প্রাপ্য হিস্যা পাওয়া সহজ হবে,” যোগ করেন ওই কর্মকর্তা।

এর আগে ১৯৯৬ সালে গঙ্গা নদীর পানিবণ্টনে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। এবার তিস্তা ও ফেনী নদীর পানির বিষয়েও চুক্তি হবে বলে শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন।

তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে খসড়া চূড়ান্ত করেছি। তার আলোকেই চূড়ান্ত চুক্তি হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএসজেড/জেকে/১৭০০ ঘ.