ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

২০০১ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টিলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) পরিচালক ছিলেন শ্যামল দত্ত। আইবির এই সাবেক প্রধানকে ধরা হয় ভারতে শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্তা হিসেবে। মনে করা হয় পরোক্ষ হলেও তার দাপট আছে ভারতের পররাষ্ট্র নীতিতে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ে। তিনি স্পেশাল প্রটেকশন গ্র”পেরও (এসপিজি) প্রধান ছিলেন। ২০০২ সালে তিনি নাগাল্যান্ডের গর্ভনর হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পান। এই গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ দুটি সংবাদপত্রে সা¤প্রতিক বিষয়াদির ওপর ধারাভাষ্য দিয়ে থাকেন।

আইবির সাবেক এই প্রধানের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন < ন>এস এন এম আবদি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ সম্পর্কে কোন ছবিগুলো আপনার মনের পর্দায় ভেসে ওঠে?

উত্তর: বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো কথা উঠলেই আমি ফিরে যাই ১৯৭১ সালের শেষভাগে। তখন আমি কুচবিহারে গিয়েছিলাম সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশের (এসপি) দায়িত্ব নিয়ে। তখনও এসপির সরকারি বাসভবনে আমি উঠিনি। ছিলাম সার্কিট হাউজে। একদিন সীমান্তের ওপার থেকে আসা অনেক মানুষের উপস্থিতিতে অবাক হয়ে পড়ি। তাদের কয়েকজনের কাঁধে ঝুলছিল অস্ত্র। আমাকে বলা হল, পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীনতার সংগ্রাম চলায় তারা এখানে। রংপুরের কিছু নেতা তখন সার্কিট হাউজে থাকতেন। মুক্তিবাহিনীর সশস্ত্র যোদ্ধারা তাদের বডিগার্ড হিসেবে ছিল।

প্রশ্ন: মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের প্রাক্কালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কি আপনার কোনো পরামর্শ আছে?

উত্তর: আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, এই ঐতিহাসিক সফর দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সমানূভূতি এবং গভীর বোঝাপড়ার ভিত্তিতে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য একটা দৃঢ় কাঠামো গড়ে তুলবে। এটা পুরোপুরি কাকতাল যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তির আগে ইতিহাস একটা বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এই সুযোগকে হাতছাড়া হতে দেবেন না। দুটি রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, দুই জাতির মধ্যে চিরস্থায়ী বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে দুই প্রধানমন্ত্রী নিজেদেরকে বড় স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে প্রমাণ করবেন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ মনে করে যে, তারা ভারতের জন্য অনেক কিছু করেছে কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পায়নি বা খুবই কম পেয়েছে।

উত্তর: এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, বাংলাদেশীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ মনে করে, ভারত বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য তেমন কিছু করেনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলো অনেক বেশি সমালোচনা করেছে। সংবাদপত্রগুলো বিভিন্ন সময় তালিকা তুলে ধরে দেখিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে কোন কোন ইস্যু ভারতের উদ্যোগের অভাবে সমাধান হচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়া দিল্লি সফরের সময় দেওয়া যৌথ বিবৃতি একটা দৃষ্টান্তমূলক নথি হয়ে আছে। এতে দুই পক্ষই অতীত থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সামনে এগুতে আন্তরিক সদিচ্ছা দেখিয়েছে। এই যৌথ বিবৃতি দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ককে অংশীদারিত্বের দিকে রূপান্তর করার প্রত্যাশাকে নতুন প্রাণ দিয়েছে।

প্রশ্ন: বড়ভাই সুলভ ইমেজ মুছে ফেলতে ভারতের কি করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

উত্তর: এই ইমেজ তা ঠিক বা বেঠিক যাই হোক, মুছে ফেলতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী ভারতকে আরো পথ এগুতে হবে। কথা বললেই শুধু হবে না, কাজ করেও দেখাতে হবে যে, তারা প্রতিবেশীর দাবি মেটাতে প্রস্তুত ও সদিচ্ছু। ভারতের উচিত তাদের বাজার উন্মুক্ত করা এবং উদার বাণিজ্যনীতি গ্রহণ করা। কারণ তাদের বিবেচনায় আনতে হবে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের জনসংখ্যা আটগুণ বেশি এবং জিডিপি ১২ গুণ বেশি।

এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালোই এগুচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ হবে ১১টি ইমার্জিং অর্থনীতির একটি, যারা বিশ্বের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত ভাগাভাগি করা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুভাবাপন্ন ও অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা ও তা বজায় রাখার দাবি উঠতেই পারে, তা যে রাজনৈতিক দলই দুই দেশের ক্ষমতায় থাকুক না কেন।

প্রশ্ন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খোলাখুলি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে নিরাপত্তা-বিষয়ক সহায়তার জন্য। একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হিসেবে ঢাকার এই সহায়তা সম্পর্কে আপনি কি মনে করেন?

উত্তর: আমরা যারা অতীতে ও বর্তমানে নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থায় ছিলাম তারা সবাই অরবিন্দ রাজখোয়াদের মতো বিদ্রোহীদের ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার বাংলাদেশের সাহসী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছি। বাংলাদেশের ভূমি ভারতীয় কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি গ্র”পকে ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকার করাটা আমাদের জন্য অনেক স্বস্তিদায়ক। অতীতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জঙ্গি অভিযান চালাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সাহায্য করা হয়েছিল। যদি বাংলাদেশের বর্তমান নীতি বজায় থাকে, এটা দুই দেশের নিরাপত্তা মানচিত্রের ওপর চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের এ নীতির ফলেই উলফাকে মধ্যস্থতার টেবিলে আনার পথ তৈরি করেছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, স্থলভাগে ট্রানজিট করিডোর দেওয়া হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশী ভোগ্যপণ্য রপ্তানির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। আপনি কি মনে করেন, এ শঙ্কা ঠিক? তাই যদি হয়, ভারত কিভাবে বাংলাদেশকে তার রপ্তানি আয়ের ক্ষতি পূরণ করবে?

উত্তর: সম্ভবত এ শঙ্কার কোনো দৃঢ় ভিত্তি নেই। কারণ এটা ঠিক হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্য বাড়াতে মেঘালয়ে সীমান্ত হাট এবং ত্রিপুরায় সমন্বিত নিরাপত্তা চৌকি (আইসিপি) গড়ে উঠত না। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতির অনেকগুলো কারণের একটা হল, ৪৬০টিরও বেশি পণ্যের বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা। যদি বাংলাদশকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে কিছু পেতে হয় তবে এ তালিকা অনেক ছোট করতে হবে।

এ তালিকা থেকে ৬০-৬৫টি পণ্য বাদ দিতে ভারতের ইচ্ছার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়টি ভোগ্যপণ্য তা জানা যায়নি। যদি এটি বাস্তবায়িত হয় তবে তা বাংলাদেশের শঙ্কা দূর করতে অনেক ভূমিকা রাখবে।

প্রশ্ন: চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে ঢাকার একটা বিশেষ আগ্রহ আছে বলে আপনি মনে করেন কেন?

উত্তর: বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি-অবনতির সুযোগে চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ হতে পেরেছে। তারা বাংলাদেশে অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদার করেছে। বাংলাদেশীদের মধ্যে একটা ধারণা জন্মেছে যে, যেখানে ভারতের বাজারে ঢোকা কঠিন, সেখানে চীন তার বাজার ও অর্থনৈতিক সহায়তার পথ খোলা রেখেছে। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দাবি মেনে নিতে অনিচ্ছুক ভারত।

প্রশ্ন: ঢাকা-ইসলামাবাদ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের উদ্বেগ কোনগুলো?

উত্তর: অতীতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের খেসারত দিয়েছে ভারত। আইএসআই পরিচালিত পাকিস্তান বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শুধু ভারতবিরোধী প্রচারণা জোরদার করার জন্যই নয়, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাহায্য-সহযোগিতা করার কাজে লাগিয়েছে। আইএসআই বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ভারতীয় জঙ্গি গ্র”পগুলোকে আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়েছে। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা বাংলাদেশের মৌলবাদী দলগুলোকে ভারতকে টার্গেট করতে উৎসাহিত করেছে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান নীতি ভারতবিরোধী এই তৎপরতাকে কমিয়েছে।

প্রশ্ন: যখনই দুই দেশের প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা আলোচনায় বসেন, বিএসএফের হাতে বাংলাদেশী নাগরিকদের গুলি করে মারার প্রসঙ্গ ওঠেই। গতমাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. এম. কৃষ্ণার সঙ্গে আলাপকালে খালেদা জিয়া এ প্রসঙ্গ আবার তুলেছিলেন। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

উত্তর: সীমান্ত এলাকায় সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করার ইস্যুটি দুই দেশের জন্যই অনেক স্পর্শকাতর। যেহেতু হতাহতের বেশিরভাগ সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে ঘটে, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা মাঝেমাঝেই এ ইস্যুটি দেশের ভোটারদের শান্ত করতে প্রায়ই ভারতীয়দের কাছে তোলেন। ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (পি চিদাম্বরাম) সা¤প্রতিক ঢাকা সফরের সময় তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা গত সাত বছরে আগের ৩৩ বছরের তুলনায় কমেছে। দুই পক্ষই অনেক সংযত হয়েছে। তারা এখন অবৈধ সীমান্ত পার হওয়া ঠেকাতে রাবার বুলেট ছুড়ছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর ভারতের নিরাপত্তার ওপর এর কি প্রভাব পড়ছে?

উত্তর: বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি গত ৪০ বছর ধরেই একটা বিবাদমান ইস্যু। বাংলাদেশ ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করছে এবং বিজিবি বিএসএফএর ঠেলে দেওয়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের গ্রহণ করতে পুরোপুরি অস্বীকার করছে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হলো লাখ লাখ বাংলাদেশী ভারতের বিভিন্ন স্থানে থাকছেন। তারা জালিয়াতি করে রেশন কার্ড পেয়েছে এবং ভোটার তালিকায় নাম উঠিয়েছে। কিছু রাজনৈতিক দল এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এ নিয়ে কোনো গা করছে না।

এই নীরব অনুপ্রবেশের নিরাপত্তা গুরুত্ব্ও রয়েছে। কারণ সীমান্ত এলাকার জনতাত্ত্বিক গঠনের ওপর এর সরাসরি প্রভাব রয়েছে। দুই দেশেরই এখন অভিবাসী নিয়ম সংস্কার করার সময় এসেছে। তাদের অবশ্যই প্রশাসনিক ও আইনগত সক্ষমতাসহ বিস্তারিত একটি অভিবাসী আমলাতন্ত্র গড়ে তুলতে হবে। এর পথপ্রদর্শক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর অভিবাসী নীতির কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিবাদমান ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে বৈশ্বিক বাস্তবতার কথাÑবিশ্বায়ন আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে অর্থনৈতিক দিক থেকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। কোনো দেশ ভালো করছে, আবার অন্যরা পিছিয়ে পড়ছে। এক দেশের মধ্যেও, কোনো অংশ এগিয়ে গেছে, কোনো অংশ পিছিয়ে পড়েছে। এর ফলে মানুষ উন্নত জীবনের খোঁজে স্থান পরিবর্তনের কারণ খুঁজে পাচ্ছে। মানুষের এই প্রবণতার জন্য সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে জটিল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক জটিল হয়ে পড়ছে। কিছু মানুষ যুক্তি দেখাতে পারে, তাদের উন্নত জীবনের আশায় তাদের যে কোনো স্থানে যাওয়ার অধিকার আছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পরিস্থিতির জন্য একটি যুগোপযোগী অভিবাসী নীতি গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে যা প্রতিবেশী দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান করবে। এ ধরনের নীতি দুই দেশের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত এলাকার জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন করতে সহায়তা করবে।

প্রশ্ন: আপনি কি আইবির পরিচালক অথবা এসপিজির পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেছেন?

উত্তর: আমি এসপিজির পরিচালক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেব গৌড়ের সঙ্গে প্রথম বাংলাদেশে যাই ১৯৯৭ সালে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ছিল খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ। আমি বাঙালি বলে অন্যান্য ভারতীয় কর্মকর্তার চেয়ে আলাদা খাতির পাই।

প্রশ্ন: আপনি তো ব্যক্তিগত সফরে ২০০৯ সালে বাংলাদেশে আবার গিয়েছিলেন। কি কি পরিবর্তন আপনি লক্ষ করেছিলেন?

উত্তর: ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আমি ব্যক্তিগত কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ভ্রমণ করি। ভারতের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধানের সফর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কৌতুহলের জন্ম দেয়। আমাকে যিনি আমন্ত্রণ করেছিলেন তাকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন করে তারা। তার জন্য এই অভিজ্ঞতা মোটেও উপভোগ্য ছিল না। ঢাকায় পা রেখেই যে পরিবর্তনটা আমার নজরে এসেছিল, তা হল নতুন বিমানবন্দর। আমি পরিচিত হলাম স্বাধীনতার পরে জন্ম নেওয়া ডিজিটাল তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে। তারা ইতিহাসের ভার বহন করে না। মধ্যবিত্ত সমাজের উত্থানও আমার নজর কেড়েছিল। বিভিন্ন উদ্যোগে তাদের উপস্থিতি ছিল। ক্ষুদ্রঋণ ও তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে নারীরা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা উপভোগ করে এগিয়ে চলছিল। অবকাঠামোর উন্নতি চোখে পড়েছে কিন্তু যান চলাচল ছিল বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। আমি কিন্তু মৌলবাদের উত্থান দেখিনি। নতুন প্রজন্ম দেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন চেয়েছে। তাদের বেশিরভাগই শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়েছে। ভারতের ব্যাপারে তাদের মন খোলা ছিল। তারা আশা করেছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে বড় দেশ হিসেবে ভারত উদার ভূমিকা রাখবে। কদিন বাদে ড. মনমোহন সিং যখন ঢাকায় পা রাখবেন, তার এটা মনে রাখতে হবে।

প্রশ্ন: আপনি যদি ভারতের গোয়েন্দা বিভাগের বদলে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হতেন তবে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন?

উত্তর: আমি গুরুত্ব দিতাম অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং বাংলাদেশের ভৌগলিক অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ বন্ধ করা। স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি তারুণ্যের উচ্চাকাক্সক্ষা আর মৌলবাদি সংগঠনগুলোর ওপর চোখ রাখতাম।

ইংরেজি থেকে অনূদিত, শরীফ উল্লাহ