ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

নয়া দিল্লি, সেপ্টেম্বর ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে শেষ মুহূর্তে অনিশ্চয়তা আর গুজবের মধ্যে এক বিবৃতিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ঢাকা যাচ্ছেন তিনি।

সোমবার এই বিবৃতিতে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে আমি দুই দিনের সফরে কাল বাংলাদেশে যাচ্ছি। এটাই হবে বাংলাদেশে আমার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।”

মঙ্গলবার বেলা ১১ টা ৫৫ মিনিটে একটি বিশেষ বিমানে ঢাকা পৌঁছাবেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার স্ত্রী গুরশরণ কাউর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা ও পানিসম্পদমন্ত্রী পবন কুমার বানসাল তার সঙ্গে থাকছেন। এছাড়া আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ড. মুকুল সাংমা, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী পু লালথানহাওলাও মনমোহনের সফরসঙ্গী হচ্ছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়েরও বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল। কিন্তু তিস্তার পানি ভাগাভাগির প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি তুলে শেষ মুহূর্তে তিনি ঢাকা না যাওয়ার কথা মনমোহনকে জানিয়ে দেন।

মমতার এই সিদ্ধান্তের পর বহু প্রতীক্ষিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিও অনিশ্চয়তায় পড়ে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের আপত্তি উপেক্ষা করে এগোবে না নয়া দিল্লি।

চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আর নানা গুজবের মধ্যেই প্রাক সফর এই বিবৃতি দেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

এতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উন্নয়ন এবং একে আরো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এই সম্পর্কের শিকড় প্রেথিত রেয়েছে দুই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামের মাঝে। উভয় দেশ একই ধরনের গণতান্ত্রিক চেতনা এবং উন্নয়নের স্বপ্ন লালন করে।”

মনমোহনের এই সফরে দুটি নদীর পানি বণ্টনসহ কয়েকটি চুক্তি, বাঘ সংরক্ষণের বিষয়ে একটি প্রটোকল এবং সুন্দরবনের প্রণিবৈচিত্র সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও পশ্চিমবঙ্গের দূরদর্শনের মধ্যে সহযোগিতা, মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং ঢাকা ও দিল্লীর জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মূখ্যমন্ত্রীরা এই সফরে আমার সঙ্গে থাকছেন। সীমানা পেরিয়ে আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আগ্রহেরই প্রতিফলন ঘটছে এতে।”

বাংলাদেশ ও ভারত বর্তমানে ‘সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের’ এক অনন্যসাধারণ সময় অতিবাহিত করছে উল্লেখ করে মনমোহন বলেন, “২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়া দিল্লি সফরের সময় যে সিদ্ধান্তগুলো হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার একটি সুযোগ এই সফরে আমরা পাচ্ছি। নিরাপত্তা, সীমানা বিরোধ, পানি সম্পদ, বিদ্যুৎ, সীমান্ত অবকাঠামো, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছি তা সন্তোষজনক। আমাদের এই অভিযাত্রা অব্যাহত থাকবে।”

বিবৃতিতে মনমোহন আশা প্রকাশ করেছেন, তার এই সফরের পর বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা সকল ক্ষেত্রে বি¯তৃত হবে।

“এসব বিষয়ে আমরা চূড়ান্ত চুক্তি পৌঁছাতে পারব বলেও আমাদের বিশ্বাস।”

এই সফরে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।

মনমোহন তার বিবৃতিতে বলেন, “ভারত প্রতিবেশী এবং ঘনিষ্ট বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে প্রতিশ্র”তিবদ্ধ। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও উন্নতির জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

“এটা এমন এক অংশীদারিত্ব, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক উন্নয়নেও বিরাট ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে,” যোগ করেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/জেকে/২২৩০ ঘ.