ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ‘রূপরেখা’ চুক্তি হলেও বহু আলোচিত তিস্তা ও ফেনী নদীর পানিবণ্টন নিয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। ট্রানজিট বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে বিনিময় হয়নি সম্মতিপত্রও।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনা ও মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বে ঢাকা-দিল্লি শীর্ষ বৈঠক শেষে শুরু হয় চুক্তি স্বাক্ষর। শুরুতেই ‘রূপরেখা’ চুক্তিতে সই করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে যৌথ বিবৃতিতে দুই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বাংলাদেশের ৪৬টি গার্মেন্ট পণ্য। এছাড়া তিন বিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

এর আগে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাক্ষরিত হয় স্থলসীমা নিয়ে একটি প্রটোকল। এতে স্বাক্ষর করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকেও সই করেন।

এছাড়া সুন্দরবনের সুরক্ষা, মৎস্য উৎপাদন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা বিনিময়, কলকাতার দূরদর্শন ও বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি ও ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনলজির মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে আরো পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় দুই পক্ষের মধ্যে।

ভারতের ওপর দিয়ে নেপাল-বাংলাদেশ ট্রানজিট প্রটোকলে নতুন একটি দফাও যোগ করা হয় দুই পক্ষের সম্মতিতে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শেখ হাসিনা ও মনমোহন সিং। এক ঘণ্টা একান্তেও বৈঠক করেন তারা।

বিকেলে হোটেল সোনারগাঁওয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে বৈঠক করেন মনমোহন।

প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে নয়া দিল্লি থেকে রওনা হয়ে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টায় শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান মনমোহন। ঢাকায় নামার পর ১৯ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে স্বাগত জানানো হয় তাকে। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশেষ বিমান থেকে নামার পর ভিআইপি টারমাকে দুটি শিশু ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী গুরুশরণ কাউরকে। তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। ওই সময় বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।

গার্ড পরিদর্শনের পর মনমোহনকে মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে সড়ক পথে সাভারের উদ্দেশে রওনা হন মনমোহন। সেখানে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে কামরাঙ্গা গাছের একটি চারাও রোপণ করেন।

স্মৃতিসৌধ থেকে ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলের পথে রওনা হন মনমোহন। সফরে এখানেই থাকবেন তিনি।

১২ বছরের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনমোহনই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে ঢাকা এলেন। তার সফরসঙ্গী রয়েছেন বাংলাদেশ লাগোয়া চারটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এত জন মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে এর আগে ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আসেননি।

মনমোহনের এ সফর নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সফর বাতিল এবং তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা ছায়া ফেলে। ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী পবন কুমার বানসালের আসার কথা থাকলেও তিনি আসেননি।

মনমোহনের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণাও রয়েছেন। সফরসঙ্গী চার মুখ্যমন্ত্রী হলেন- আসামের তরুণ গোগৈ, মেঘালয়ের মুকুল সাংমা, ত্রিপুরার মানিক সরকার এবং মিজোরামের পু লালথানহাওলা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উন্নয়ন এবং একে আরো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এই সম্পর্কের শিকড় প্রোথিত রেয়েছে দুই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামের মাঝে। উভয় দেশ একই ধরনের গণতান্ত্রিক চেতনা এবং উন্নয়নের স্বপ্ন লালন করে।”

বাংলাদেশ ও ভারত বর্তমানে ‘সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের’ এক অনন্যসাধারণ সময় অতিবাহিত করছে উল্লেখ করে মনমোহন বলেন, “২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়া দিল্লি সফরের সময় যে সিদ্ধান্তগুলো হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার একটি সুযোগ এই সফরে আমরা পাচ্ছি। নিরাপত্তা, সীমানা বিরোধ, পানি সম্পদ, বিদ্যুৎ, সীমান্ত অবকাঠামো, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছি তা সন্তোষজনক। আমাদের এই অভিযাত্রা অব্যাহত থাকবে।”

বিবৃতিতে মনমোহন আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের পর বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা সকল ক্ষেত্রে বিস্তৃত হবে।

“এসব বিষয়ে আমরা চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবো বলেও আমাদের বিশ্বাস।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/এসএসজেড/জেকে/২০৩২ ঘ.

_________________
সংবাদটি পাঠকের মন্তব্যের জন্য ব্লগে শেয়ার করা হলো। বিডিনিউজ টুয়েন্টিফর ডটকম ব্লগ সিটিজেন জার্নালিজম ভিত্তিক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর বাংলাদেশ সফর ও ট্রানজিট ও পানিচুক্তি না হওয়ার বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া লিখতে পারেন এ ব্লগে। এতদসংক্রান্ত কোনো ছবি, পডকাস্ট (অডিও ও ভিডিও) যদি আপনি নিজে তুলে থাকেন তাও প্রকাশ করতে পারেন। যেকোনো সাহায্য ও পরামর্শের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

মন্তব্য প্রদানের সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. যারা ব্লগে এখনও রেজিস্ট্রেশন করেননি, তারা সঠিক ইমেইল এড্রেস ব্যবহার করে মন্তব্য করতে পারেন। তবে ভুল/ফেক এড্রেস ব্যবহার করা হলে মন্তব্য প্রকাশিত হয় না। বিশেষ ক্ষেত্রে ছদ্মনাম ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে অবশ্যই শালীন হতে হবে।
২. যেকোনো প্রকারের অসৌজন্যমূলক শব্দ চয়ন থেকে বিরত থাকুন।
৩. মোবাইল থেকে লিখিত প্রতিক্রিয়া ইংরেজীতে গ্রহণীয়। তবে সেক্ষেত্রে ব্রাকেটে লিখে দিন মোবাইল থেকে।
৪. শুদ্ধ বানানের জন্য সাহায্য নিতে পারেন বেঙ্গলি বাংলাদেশ ডিকশনারির। সহজে ইনস্টল করা সম্ভব এই এ্যাড-অনটি সম্বন্ধে জানতে দেখুন এই পোস্ট ব্লগ সহায়িকা-৩: বাংলা ’বানান ভুল’ শুদ্ধিকরণ