ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফর এবং বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘এক ধাপ অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার রাতে সোনারগাঁও হোটেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে হাসিনা বলেন, “মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফর এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরো এক ধাপ এগোলো।”

তিনি বলেন, “বিশেষ করে দুই দেশের স্থলসীমা নির্ধারণ, যোগাযোগ, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, শিক্ষা ও সুন্দরবনের ঐতিহ্য সুরক্ষার মতো বিষয়ে আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছি। জাতীয় উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আজকের এই আলোচনা দুই দেশ ও এর জনগণের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

বক্তৃতার শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে তার ভারত সফরের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “ওই সময় থেকে আমরা সাগ্রহে আপনার সফরের অপেক্ষায় ছিলাম। আমি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করছি। ফলশ্র”তিতে দুই দেশের সম্পর্কে একটি নতুন মাত্রার উন্মোচন হয়েছে।”

সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, ভাষা, ইতিহাস ও ভৌগলিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বিচারে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহ্যগত অনেক মিল রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতীয় জনগণ ও সরকারের সমর্থনের মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্কের মাত্রা নির্ধারিত হয়ে যায়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতীয়দের জীবন উৎসর্গের কথা কখনো ভোলা সম্ভব নয় বলেও জানান হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত শ্র্র্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি রচনা করেন।”

দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার এখনই যুৎসই সময়- এ মন্তব্য করে হাসিনা জনগণের স্বার্থে বিরাজমান সুযোগগুলোকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

বক্তৃতায় অর্থনীতিতে ভারতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছে।”

দুই দেশের অভিন্ন সমস্যা হিসেবে তিনি খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, সন্ত্রাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, দারিদ্র্য, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “এসব অভিন্ন সমস্যা আমাদের দুটি দেশকেই মোকাবেলা করতে হচ্ছে। আমরা যদি এক হয়ে কাজ করি তাহলে এমন কোনো সমস্যা নেই যা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।”

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে একটি বিশেষ বিমানে করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মনমোহন সিং। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান।

দুপুর ১টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। বিকেল ৪টার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সোনারগাঁও হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন মনমোহন। সেখানে দুদেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক ‘রূপরেখা’ চুক্তিসহ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

তবে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানিবণ্টন বা ট্রানজিট বাস্তবায়নে দুদেশের মধ্যে সম্মতিপত্র বিনিময় হয়নি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএল/পিডি/২১১৫ ঘ.

_________________
সংবাদটি পাঠকের মন্তব্যের জন্য ব্লগে শেয়ার করা হলো। বিডিনিউজ টুয়েন্টিফর ডটকম ব্লগ সিটিজেন জার্নালিজম ভিত্তিক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর বাংলাদেশ সফর ও ট্রানজিট ও পানিচুক্তি না হওয়ার বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া লিখতে পারেন এ ব্লগে। এতদসংক্রান্ত কোনো ছবি, পডকাস্ট (অডিও ও ভিডিও) যদি আপনি নিজে তুলে থাকেন তাও প্রকাশ করতে পারেন। যেকোনো সাহায্য ও পরামর্শের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

মন্তব্য প্রদানের সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. যারা ব্লগে এখনও রেজিস্ট্রেশন করেননি, তারা সঠিক ইমেইল এড্রেস ব্যবহার করে মন্তব্য করতে পারেন। তবে ভুল/ফেক এড্রেস ব্যবহার করা হলে মন্তব্য প্রকাশিত হয় না। বিশেষ ক্ষেত্রে ছদ্মনাম ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে অবশ্যই শালীন হতে হবে।
২. যেকোনো প্রকারের অসৌজন্যমূলক শব্দ চয়ন থেকে বিরত থাকুন।
৩. মোবাইল থেকে লিখিত প্রতিক্রিয়া ইংরেজীতে গ্রহণীয়। তবে সেক্ষেত্রে ব্রাকেটে লিখে দিন মোবাইল থেকে।
৪. শুদ্ধ বানানের জন্য সাহায্য নিতে পারেন বেঙ্গলি বাংলাদেশ ডিকশনারির। সহজে ইনস্টল করা সম্ভব এই এ্যাড-অনটি সম্বন্ধে জানতে দেখুন এই পোস্ট ব্লগ সহায়িকা-৩: বাংলা ’বানান ভুল’ শুদ্ধিকরণ