ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুদেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক ‘রূপরেখা’ চুক্তিসহ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা এ কখা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের আজকের আলোচনায় আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অজর্নে সক্ষম হয়েছি। আমি এ কথা ঘোষণা করতে পেরে খুশি যে, দুপক্ষের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধানে আমরা আরো কাছাকাছি এসেছি। উষ্ণতা, আন্তরিকতা এবং বোঝাপড়ার চেতনা থেকেই এটি করা সম্ভব হয়েছে।”

দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা ঐতিহাসিক মুহুর্ত। আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভাষা একই রকম। আমাদের চ্যালেঞ্জগুলোও এক এবং আমরা একই আকাঙ্খা ও মূল্যবোধ পোষণ করি। শক্তিশালী অসা¤প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাড়ানো বহুমুখি ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের ছাপই আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ছাপ ফেলেছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানের বাস্তবতা আমাদের আন্তনির্ভরশীলতা এবং সহযোগিতার আবশ্যকতা শিখিয়েছে। প্রতিবেশীদের জন্য সীমান্তে দেয়ালে থাকতে পারে না। বরং থাকবে সহযোগিতা এবং বিনিময়ের জানালা। এর জন্যই প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বিশেষ নজর দাবি করে। এর জন্যই সংযোগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।”

২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভারত সফরের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর আমরা ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে এই উচ্চতায় নিয়ে আসতে চেয়েছি। বিশেষ করে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভারতে আমার সফরের পর ভবিষ্যতে যৌথ উন্নয়নের জন্য পথের নিশানা বের করতে আমরা নতুন কাঠামো তৈরিতে কাজ করেছি। এরপর আমরা আমাদের যৌথ লক্ষ্যগুলো পরিপূর্ণ করার সফল বাস্তবায়নের দিকে অনেক দূর এগিয়েছি। কিন্তু আমাদের আরও অনেক পথ যেতে হবে।”

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সাক্ষরিত ‘সহযোগিতা ও উন্নয়নের ওপর রূপরেখা চুক্তি’কে একটি দূরদর্শী নথি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটায় শুধু বর্তমানের বাস্তবতা নয়, ভবিষ্যতের সম্ভবনার কথাও ভাবা হয়েছে।”

কয়েকটি সমঝোতা স্বারক ও প্রটোকল সাক্ষর হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি এর ফলে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। আরো কিছু সমঝোতা স্বারক ও প্রটোকলের বিষয়ে আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া হয়েছে যা শিগগিরই সই হবে বলে আমরা আশা করছি।”

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন থেকে দহগ্রাম এবং আঙ্গরপোতার মানুষ তিন বিঘা করিডোর দিয়ে ২৪ ঘন্টা বিনা বাধায় চলফেলা করতে পারবে।

তিনি বাংলাদেশের ৪৬টি পণ্যকে বিনাশুল্কে ভারতের বাজারে ঢুকতে দিতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পর্যায়ক্রমে অগ্রসর হওয়ার জন্য চেষ্টা করে যেতে আমরা বিশ্বাস করি। অমীমাংসিত সব দ্বিপাক্ষিক ইস্যু যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করার জন্য বারবার আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছি”

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে একটি বিশেষ বিমানে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মনমোহন সিং। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান।

দুপুর ১টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। বিকেল ৪টার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সোনারগাঁও হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন মনমোহন। সেখানে দুদেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক ‘রূপরেখা’ চুক্তিসহ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

তবে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানিবণ্টনে কোনো চুক্তি এবং ট্রানজিট বাস্তবায়নে দুদেশের মধ্যে সম্মতিপত্র বিনিময় হয়নি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউ/০০৪৯ ঘ.