ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- অবশেষে ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রবেশের সুযোগ পেল বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের ৪৬টি পণ্য।

এর ফলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পোশাক রপ্তানি বাড়বে এবং দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতিও কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বে ঢাকা-দিল্লি শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এ ঘোষণা দিতে পেরে আনন্দিত যে বাংলাদেশের অনুরোধ অনুযায়ী এখন থেকে ভারতের বাজারে ৪৬টি গার্মেন্ট পণ্য বিনাশুল্কে প্রবেশ করতে পারবে।”

“ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির সমস্যাটি নিয়ে ভারত পূর্ণ সচেতন।,” বলেন তিনি।

২০০৯-১০ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিলো ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। ওই বছর ভারত থেকে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিলো। আর এর বিপরীতে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য ভারতে রপ্তানি করেছিলো।

মনমোহন সিংয়ের ঘোষণাকে দেশের পোশাক খাতের জন্য একটি ‘উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

ওই ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এটা একটা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এর ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি অনেক বেড়ে যাবে।”

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য ভারত সরকার যে স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকা করেছে, সেখানে চারশ ৮০টি পণ্যকে ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বাইরে রাখা হয়েছে এবং এগুলোর মধ্যে একশ ৫৪টিই তৈরি পোশাক (৭৮টি নিটওয়ার এবং ৭৬টি উভেন পোশাক) খাতের।

বাংলাদেশ বেশ কিছুদিন ধরেই নেতিবাচক তালিকায় থাকা এসব পণ্যের ওপর থেকে বাধা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে ভারত বাংলাদেশ থেকে ৮০ লাখ পিস তৈরি পোশাক শুল্কমুক্ত কোটায় আমদানি করে আসছিল। গত এপ্রিলে আনন্দ শর্মার বাংলাদেশ সফরের পর বছরে এক কোটি পিস করা হয়।

কিন্তু বছরের প্রথম সাত মাসেই এ কোটা পূরণ হয়ে যায়। এরপর শুল্কমুক্ত সুবিধায় আরো এক কোটি পিস পোশাক রপ্তানির জন্য আবেদন জমা পড়েছে।

ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা গত দুবছর ধরে নেতিবাচক তালিকা থেকে ৬১টা পণ্যকে বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেই যাত্রার অনেকটাই সফলতা এলো।”

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন বলেন, “তৈরি পোশাক খাতের ৪৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছিলাম আমরা। তারা (ভারত) ৪৬টি দিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় সাফল্য বলে আমি মনে করি। এ ৪৬টি পণ্য আমাদের মোট পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ।”

তিনি বলেন, “বছরে ভারতের বাজারে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাকের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর তা ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। এরকম একটি বড় বাজারের ১০ শতাংশও যদি আমরা দখল করতে পারি, তাহলে আমাদের পোশাক রপ্তানি অনেক বেড়ে যাবে।”

ভারতের চাহিদার ১০ শতাংশ পোশাক রপ্তানি সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে কি না-জানতে চাওয়া হলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “গুণগত মানের দিক থেকে সারা বিশ্বেই আমাদের পোশাক সমাদৃত। ভারতের বাজারে আমাদের পোশাকের যথেষ্ঠ চাহিদাও প্রচুর। চাহিদা মতো রপ্তানির সামর্থ্যও রয়েছে আমাদের।”

এর আগে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভারতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।”

এর আগের বছরগুলোতে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে পোশাক রপ্তানির কোটা পূরণ করতে না পারলেও ভারতে বাংলাদেশি পোশাকের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ২০০৯ সালে ৮০ লাখ পিস পোশাকের কোটার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছিল ৩৫ লাখ পিস; ২০১০ সালে তা বেড়ে ৪৫ লাখ পিস হয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, “আর চলতি বছর ভারতের বাজারে প্রায় আড়াই কোটি বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা রয়েছে। আগামী বছর এ চাহিদা আরো বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।”

জালাল আহমেদ জানান, ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৫১ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য; সাড়ে ১৬ কোটি ডলার আয় হয়েছে এই খাতে। আর তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ডলারের।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় পোশাক রপ্তানির সুযোগে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে এমন আশা প্রকাশ করে আবদুল মাতলুব আহমেদ বলেন, “এই ধাক্কাতেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৮০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে। এরপর পর্যায়ক্রমে রপ্তানি আরো বাড়বে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/আরবি/পিডি/২২২৬ ঘ.