ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

টাঙ্গাইল, সেপ্টেম্বর ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ লোক বিভিন্ন ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত হলেও সচেতনতার অভাব এবং সীমিত সুবিধার কারণে ৯০ শতাংশ রোগীই চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

টাঙ্গাইলে কিডনি রোগ নিয়ে এক আলোচনায় কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (কেএএমপিএস) সভাপতি অধ্যাপক এমএ সামাদ বলেন, “উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের পাশাপাশি ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে কিডনি রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিন্তু দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এসব রোগ এবং নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে জানার তেমন কোনো সুযোগ পাচ্ছে না।”

কিডনি রোগকে এক ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

কেএএমপিএস-এর এক জরিপের পরিসংখ্যান তুলে ধরে অধ্যাপক সামাদ বলেন, টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার গ্রামীণ এলাকার মাত্র দেড় শতাংশ মানুষ কিডনি রোগ সম্পর্কে জানেন, আর তাদের সেই জ্ঞানও প্রাথমিক পর্যায়ের।

আলোচনা সভায় উপস্থিত নুরুল আলম নামের এক ব্যবসায়ী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, তিনি ডায়াবেটিসে ভুগছেন। কিন্তু ডায়াবেটিস হলে যে কিডনি রোগেরও ঝুঁকি বাড়ে- এই আলোচনায় এসেই তা প্রথম জানলেন।

অধ্যাপক সামাদ জানান, টাঙ্গাইল ও এর আশপাশের প্রায় ছয় লাখ মানুষ কিডনি রোগে ভুগছেন। এ এলাকার তিন থেকে চার হাজার মানুষ কিডনি অকার্যকর হয়ে মারা গেছেন।

“প্রয়োজনীয় ডায়ালাইসিস সুবিধা পেলে এদের অনেকেরই জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো,” উল্লেখ করে টাঙ্গাইলে ডায়ালাইসিস মেশিন আনতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, রোগের চূড়ান্ত পর্যায়ে ডায়ালাইসিস করাতে না পেরে ৯০ শতাংশের বেশি কিডনি রোগী মারা যান। বাকি ১০ শতাংশের ডায়ালাইসিস করানোর মতো সামর্থ্য থাকলেও এদের একটি অংশও শেষ পর্যন্ত আর অর্থের যোগান দিতে পারেন না।

ডায়ালাইসিসের জন্য প্রতিবছর একজন কিডনি রোগীর পেছনে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে জানান তিনি।

“সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বল্প খরচে ডায়ালাইসিসের মতো সেবা পাওয়া সম্ভব। তবে এ ধরনের হাসপাতালের সংখ্যাও হাতে গোণা- মাত্র পাঁচ থেকে ছয়টি”, যোগ করেন অধ্যাপক সামাদ।

তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন কেএএমপিএস টাঙ্গাইলে একটি ডায়ালাইসিস কেন্দ্র খোলার পদক্ষেপ নিয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ছাড়াও রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক ও শিক্ষকরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

আলোচনা সভার প্রধান অতিথি প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ওই কেন্দ্রে একটি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্র”তি দেন। পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবাইকে এ কেন্দ্রের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ার উল আলমও এই কার্যক্রমে সহযোগিতার প্রতিশ্র”তি দেন। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক এম বজলুল করিম চৌধুরী ডায়ালাইসিস কেন্দ্রের জন্য একটি ভবন নির্মাণে সহযোগিতা দেবেন বলে জানান ।

কিডনি রোগ প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক অবস্থাতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলেছেন। তারা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ কিডনি অকার্যকর হওয়ার আগেই ভালো করা সম্ভব।

প্রতিবছর প্রস্রাবের অ্যালবুমিন পরীক্ষা করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

অধ্যাপক সামাদের মতে, প্রস্রাবের পরিমাণ, রংয়ের পরিবর্তন, শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্টের মতো কারণ যাচাই করে কিডনি রোগ শনাক্ত করা যায়। তবে সন্দেহ হলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এনআইএইচ/এএল/জেকে/০০০৯ ঘ.