ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আনা অভিযোগের পক্ষ নিয়ে আইনজীবীদের নেতা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অর্থ নেওয়ার ঘটনা বিরল।

ঈদের দিন বিএনপি চেয়ারপার্সনের দেওয়া বক্তব্যে সৃষ্ট বির্তকে যোগ দিয়ে শনিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব বলেছেন, “বিরোধীদলীয় নেত্রীর বক্তব্য রাজনৈতিক। তার ওই বক্তব্য নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। তিনিই এর জবাব দেবেন। সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে বলায় আদালত অবমাননা হয়েছে কি না সেটি বিচার বিভাগের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।”

বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই উপদেষ্টা বলেন, “বিচারপতিদের প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ নেওয়ার নজির আছে। চিকিৎসার জন্য অনেক বিচারপতিই এ অর্থ নেন। এটা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অর্থ নেওয়া বিরল ঘটনা।”

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গত ৩১ অগাস্ট অভিযোগ করেন, প্রধান বিচারপতি থাকাকালে খায়রুল হক ‘টাকার বিনিময়ে’ এ রায় দিয়েছেন।

গত ১০ মে প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৬ বিচারপতির বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দেয়।

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল দুই কিস্তিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ টাকা তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য নিয়েছিলেন।

শনিবার আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, খালেদার বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল।

একইদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, [আইনমন্ত্রীর] ওই বক্তব্যের জবাব দিতে তার রুচিতে বাধে।

খায়রুল হকের টাকা নেওয়া প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব বলেন, “আমি যতদূর জানি তিনি একজন স্বচ্ছল ব্যক্তি। তার স্ত্রীও স্বচ্ছল। তারপরও তিনি যখন বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক মামলার রায় দিচ্ছিলেন তখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অর্থ নিয়েছেন।।

“খায়রুল হক বিতর্কিত ও আলোচিত বিচারপতি। ত্রাণ তহবিল থেকে তার অর্থ নেওয়ার খবর যখন প্রকাশিত হয় তখন সাংবাদিকরা তার কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য না দিয়ে বলেছিলেন, ‘লিভ মি অ্যালোন।'”

ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি এখনো প্রকাশ না হওয়া বিচারপতিদের অদক্ষতার প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি।

তিনি বলেন, “এর দায়ও খায়রুল হকের ওপর বর্তায়। প্রধান বিচারপতির দায়িত্বপালনকালে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তিনি মিডিয়ায় কথা বলেছিলেন।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএন/পিডি/জিএনএ/২১০৩ ঘ.