ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘খুবই সন্তুষ্ট’ বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, এই সফরে যে চুক্তিগুলো হয়েছে- তা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিস্তা নদীর পানির বন্টন চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে আশরাফ বলেন, “এই চুক্তি সই হবে। এই চুক্তি অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে।”

ভারতকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসাবে আখ্যায়িত করে দু’দেশের নাগরিকদের ঐতিহ্যগতভাবে ‘একই দেশের নাগরিক’ হিসাবে আখ্যায়িত করেন আশরাফ।

ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ সব কথা বলেন।

মনমোহন সিং গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করেন। এ সফরে বহুপ্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় খসড়া চুক্তিতে সম্মত না হওয়ায় চুক্তিটি হয়নি।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দাবি করেছে, মনমোহন সিংয়ের সফর ব্যর্থ হয়েছে।

এ জন্য সরকারের ‘অদক্ষতাকে’ দায়ী করে বিএনপি দাবি করে, সরকারের কূটনৈতিক দেউলিয়াত্ব, সমন্বয়হীনতা, অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও সংকীর্ণতার কারণে এই সফর ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

মনমোহনের সফরে আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক দুদেশের মধ্যে একটি রূপরেখা চুক্তি এবং ১৯৭৪ সালের স্থলসীমা চুক্তির আওতায় একটি প্রটোকল স্বাক্ষর হয়। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে আটটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

এ সফরে ট্রানজিট বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ‘সম্মতিপত্র’ বিনিময় হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

ভারত যাবেন আশরাফ

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ বলেন, মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে যে বিষয়গুলোর কোনো সুরাহা হয়নি সেগুলো নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা হবে এবং সব সমস্যার পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে।

আশরাফ জানান, বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত তাকে সে দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি ভারতে যাবেন এবং অমীমাংসীত বিষয়গুলো নিয়ে অচিরেই বিস্তারিত আলোচনা হবে।

“ভারত আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। আমরা আমাদের প্রতিটি দাবি পর্যায়ক্রমে আদায় করে নিচ্ছি।”

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য তিস্তা চুক্তি না হওয়ার জন্য আলোচনায় রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত না করাকে দায়ী করেছেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “অনেকে এরকম কথা না জেনেই বলতে পারেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের আগে সে দেশের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেখানে কোনো আমলা ছিলো না। অনেক আলোচনা প্রকাশ্যে হয়েছে।

“অনেক আলোচনা প্রকাশ্যে হয়নি। আমরা মাল্টি লেভেলে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। প্রতিটি চুক্তির বিষয়ে রাজনীতিবিদদের পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে।”

‘আমরা সবাই আশাবাদী ছিলাম’

মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের আগের রাতেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তারপরও এই চুক্তিটি না হওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা কি না জানতে চাইলে আশরাফ বলেন, আমরা সবাই আশাবাদী ছিলাম যে, তিস্তা চুক্তি হবে।

আরেক প্রশ্নে জবাবে আশরাফ বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বা প্রটোকল নিয়ে কোনো লুকোচুরি হয়নি। মনমোহনের সফরের আগে সব বিষয়ই মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হয়।”

আশরাফ আরো বলেন, “তিস্তা ও ট্রানজিট দু’টি ভিন্ন বিষয়। তিস্তার সঙ্গে ট্রানজিট জড়িত নয়। এখনো আমাদের অবকাঠামো নেই। ট্রানজিট করেও তা বাস্তবায়ন করা যাবে না।”

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সফরে না আসা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমরা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না। ভারতের কোনো মুখ্যমন্ত্রী রাজি না থাকলে ভারত সরকার তাকে রাজি করাবে।

“আমরা স্বাধীন দেশ। আমাদের সম্পর্ক ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে।”

‘চুক্তির দিনই গেজেট প্রকাশ করেছে ভারত’

মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময়ে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে দু’দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে বলে উল্লেখ করেন আশরাফ।

সফরে বাংলাদেশের ৪৬টি গার্মেন্ট পণ্যকে ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের ঘোষণা দেন মনমোহন সিং।

এ সুবিধাকে ‘যুগান্তকারী’ হিসাবে আখ্যায়িত করে আশরাফ বলেন, “যে দিনই এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। সে দিনই ভারতে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।”

বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়াতেই বাণিজ্য বৈষম্যের সূচনা হয় বলে মন্তব্য করেন আশরাফ।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, আহম্মদ হোসেন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ও পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/পিডি/২১৩৮ ঘ.