ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- তিনটির জায়গায় ছয়টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানান।

লাইসেন্স দেয়ার লক্ষ্যে গত ৩১ মার্চ লাইসেন্স পাওয়ার নীতিমালা বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে সরকার। নীতিমালায় সর্বোচ্চ তিনটি লাইসেন্স দেয়ার কথা উল্লেখ ছিল। সরকার চাইলে লাইসেন্সের সংখ্যা আরও কমানো যাবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ ছিল। কিন্তু পরে তিনটি লাইসেন্সের জায়াগায় ছয়টি লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তিনটি লাইসেন্সের জায়গায় ছয়টি লাইসেন্স দেয়ার বিষয়ে কোনো চাপ ছিল কিনা জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী দাবি করেন, এ বিষয়ে কোনো চাপ ছিল না। নিয়ম মেনেই লাইসেন্সের জন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নথিতে বলা হয়, প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধা বাড়ানো এবং ব্যান্ডউইডথের দাম কমানোর জন্যই বেশি লাইসেন্স দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগের জন্য একটি সাবমেরিন কেবলের ওপর নির্ভরশীল। এটি মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন হলে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়।

লাইসেন্সপ্রাপ্ত অপারেটররা টেরেস্ট্রিয়াল অপটিক্যাল ফাইবার লাইনের মাধ্যমে পাশ্ববর্তী দেশ থেকে টেলিযোগাযোগ কোম্পানির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে।

আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি বিটিআরসি চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেবে বলে জানান টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।

মন্ত্রনালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, লাইসেন্স পাওয়া ছয়টি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে নভোকম লিমিটেড, ওয়ান এশিয়া-এএইচএলজেভি, বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেড, ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড এবং ফাইবার এ্যাট হোম লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স ইস্যু হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে কেবল বসানোর কাজ শেষ করে সেবা চালু করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারলে প্রতি মাসের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির ১০ শতাংশ করে কেটে নেওয়া হবে।

নীতিমালা প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নয়টি কোম্পানি লাইসেন্স নেয়ার জন্য বিটিআরসিতে আবেদন করে। নীতিমালা অনুযায়ী বিটিআরসি ২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে। এই কমিটি নীতিমালায় নির্ধারিত নির্বাচনের মানদন্ড অনুযায়ী প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের ক্রম তৈরি করে লাইসেন্স দেয়ার সুপারিশ করে।

নীতিমালায় নির্ধারিত নির্বাচন পদ্ধতি অনুযায়ী প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের ক্রম তৈরি করা হয়। প্রথম থেকে ষষ্ঠ স্থান পাওয়া আবেদনকারীদের লাইসেন্স দেয়ার সুপারিশ করা হয়।

মন্ত্রনালয়ের নথি থেকে জানা যায়, ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে ১ম স্থানে রয়েছে নভোকম লিমিটেড (প্রাপ্ত নম্বর ৯১.৩৬), ২য় স্থানে ওয়ান এশিয়া-এএইচজেভি (৮৮.০৬), ৩য় স্থানে বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেড (৮৭.৮৫), ৪র্থ স্থানে ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড (৮২.৮৪), ৫ম স্থানে সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড (প্রাপ্ত নম্বর ৮১.৮৩) এবং ৬ষ্ঠ স্থানে ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেড (প্রাপ্ত নম্বর ৮০.১৯)।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/এসইউএম/এসইউ ২১০০ ঘ.