ক্যাটেগরিঃ bdnews24

জয়পুরহাট, সেপ্টেম্বর ১৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- অবৈধভাবে কিডনি কেনাবেচায় অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসক জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জয়পুরহাটে দরিদ্রদের কিডনি কেনাবেচা চক্রের গ্রেপ্তার সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের স্বীকারোক্তিতে নাম পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এ ঘটনা তদন্ত দলের প্রধান কালাই থানার ওসি ফজলুল করিম।

তিনি বলেন, “ছয় সদস্যের একটি একটি তদন্ত দল বুধবার থেকে ঢাকায় তদন্ত শুরু করেছে। দলটি তিন দিন রাজধানীতে তদন্ত করবে।”

জয়পুরহাট জেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র দরিদ্র মানুষদের টাকার বিনিময়ে কিডনি বিক্রি করতে প্ররোচিত করে আসছিলো। সম্প্রতি জেলার কালাই উপজেলার প্রায় দুশ মানুষের কিডনি বিক্রি করার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এরপর জয়পুরহাট, বাগেরহাট ও ঢাকা থেকে এ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ওসি ফজলুল করিম বলেন, “অবৈধভাবে কিডনি কেনাবেচার অভিযোগে আটকরা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অনেক নামি-দামি প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসক এর সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে।”

“বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল), ঢাকার ল্যাব এইড, কিডনি ফাউন্ডেশন, বারডেমসহ বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকের নাম এসেছে।”

ওসি জানান, এরা এই অবৈধ কিডনি ব্যবসায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

“কোনো কিডনি বিক্রেতার কাছে চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানের প্যাডে ব্যবস্থাপত্র এমনকি কিডনি কেনাবেচার সময় করা এফিডেভিটের অনুলিপিও পাওয়া যায়নি। এগুলো দালাল বা সংশ্লিষ্ট ডাক্তার-প্রতিষ্ঠানের কাছে আছে।”

তবে কোন কোন চিকিৎসক এই অবৈধ কিডনি বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত তাদের নাম তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করতে অপারগতা জানান তদন্ত দলের প্রধান ফজলুল।

চিকিৎসকদের তিনটি সংগঠনের বক্তব্য

চিকিৎসকদের তিনটি সংগঠন এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, অনাত্মীয়ের কিডনি ও লিভার সংযোজন ও বেচাকেনায় চিকিৎসকদের সংশ্লিষ্ট থাকার প্রশ্ন অবান্তর।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জন্স ও বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশন বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যত কিডনি সংযোজন হয়েছে তার সিংহভাগই অলাভজনক হাসপাতাল ও একাডেমিক ইনস্টিটিউটে সম্পন্ন হয়েছে। এর সঙ্গে চিকিৎসকদের কোনো আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জন্সের সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এলএইচ/এনআইএইচ/সিএস/পিডি/০০১৯ ঘ.