ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। এতে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে।

“কারণ দুর্নীতিগ্রস্ত অথবা অভিযুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ করা হবে না।”

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসনের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব এম আবদুল আজিজ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ।

পদ্মা সেতু প্রকল্প তদারকির জন্য প্রাক নির্বাচনী তালিকায় থাকা কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে বিশ্ব ব্যাংকের অনুরোধে কানাডার পুলিশ ‘দুর্নীতি’র তদন্ত শুরুর পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোন্ ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দাতা সংস্থাগুলোর অর্থায়ন ঝুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

তবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে সন্দেহ থাকলে তাকে বাদ দিয়ে দ্রুত পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করতে বিশ্ব ব্যাংককে প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক ১২০ কোটি, এডিবি ৬১ কোটি, জাইকা ৪০ কোটি ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে।

< ন>খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ২৪ জন সচিবের বক্তব্য শোনেন ও দিক নির্দেশনা দেন।

সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত ৫৩ জন সচিবের মধ্যে ৪৮ জন উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থ থাকায় একজন ও রাষ্ট্রীয় কাজে বিদেশে থাকায় অন্য চারজন উপস্থিত থাকতে পারেননি।

পদ্মা সেতু নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে আবদুল আজিজ বলেন, “এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রীও কথা বলেছেন। সচিব সভায় প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।”

বিষয়টি নিয়ে এ পর্যন্ত পাঁচটি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এর মধ্যে চারটিই আগের সরকারের সময়ের। বর্তমানের অভিযোগ মাত্র একটি।”

“তারপরও এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ অভিযুক্ত বা দুর্নীতিগ্রস্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এ সেতুর কাজ করা হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

< ন>বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার হয়নি

সারাদেশে সড়ক মেরামতের কাজ দ্রুত করতেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

তিনি বলেন, “বেহাল সড়ক এবং এগুলো সংস্কারে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সড়ক বিভাগের সচিবের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চান।”

“সড়ক বিভাগের সচিব সময়মতো পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রাস্তাঘাট সংস্কার করতে না পারার কথা জানান।”

প্রধানমন্ত্রী তার জবাবের প্রেক্ষিতে বলেন, আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। তাই অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে প্রথম থেকেই আমাদের কাজ করা উচিৎ ছিল। ভবিষ্যতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেই জনসম্পৃক্ত এসব বিষয়ে কাজ করতে হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমকে/এমআই/পিডি/১৮৩২ ঘ.