ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-
শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভার প্রারম্ভিক বক্তৃতায় হাসিনা বলেন, “ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরে আমরা লাভবান হয়েছি। সীমানা চিহ্নতকরণ, সিটমহল সমস্যার সমাধানসহ বেশ কিছু অমিমাংসিত বিষয়ের সমাধান আমরা করতে পেরেছি।”

গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তিতে শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। চুক্তি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন মনমোহনও। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ চুক্তি না হওয়ার জন্য ভারতকে দায়ী করা হয়।

আলোচনায় থাকলেও ট্রানজিট নিয়ে দুই দেশের সম্মতিপত্রও বিনিময় হয়নি এই সফরে। কার্যত তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণে ঢাকা এতে রাজি হয়নি।

এ বিষেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিস্তা নিয়ে মধ্যবর্তী একটা আলোচনা হয়েছিলো। আমরা সেখানে এগিয়ে ছিলাম। তিস্তা পানি চুক্তি হয়নি এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমি দুইমাস বা তিন মাস বলে সময় বেধে দিতে চাই না, তবে বলতে চাই এ চুক্তি হবেই।”

“পানি এমন একটা জিনিস যা কেউ আটকে রাখতে পারে না। উপর থেকে নিচে এটা নামবেই। এটা দুই দেশের ব্যাপার। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমস্ত সমস্যার সমাধান করবো”, যোগ করেন হাসিনা।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে কটাক্ষ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় সরকারের জন্য ভালো হয়েছে। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন। তারাতো শান দিয়ে বসেছিলো- চুক্তি হলেই বলতো, দেশ বেঁচে দিয়েছি”

বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা তো উদ্যোগ নিয়ে একটা পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। এর আগে যারা ছিলো তারা তো এটাও পারেনি। তারা কেন পারেনি তার জবাব দিতে হবে।”

তিস্তা চুক্তি না হলেও মনমোহন সিংয়ের সফরে আঞ্চলিক সহযোগিতার রূপরেখা চুক্তি এবং সীমান্ত বিরোধ নিরসনে একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৭৪ সালে করা মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির আওতায় সিটমহল ও অপদখলীয় ভূমি বিনিময় এবং অচিহ্নিত সীমানা চিহ্নিত করা হবে এই প্রটোকলের মাধ্যমে।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা যৌথসভায় বলেন, “জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে ওই চুক্তি করেছিলেন। সেই সময় থেকে শুনে আসছি এটা নাকি গোলামী চুক্তি। এখন সেই চুক্তি কাজে লাগলো।”

“সীমানা চিহ্নিত করা, সিটমহল সমস্যার সমাধান কঠিন ও দূরুহ কাজ। স্বাধীন দেশের সীমানা থাকবে না এটা হতে পারে না। সীমনা নির্ধারণে খুঁটি-নাটি যাই হয়েছে তা আমরাই করলাম। অতীতের কোনো সরকারই এটা করতে পারেনি”, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফলে সেদেশের বাজারে মোট ৩০৮ ধরনের বাংলাদেশি পণ্য বিনাশুল্কে প্রবেশাধিকার পাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা (বিএনপি) বাংলাদেশের কোনো পণ্যই ভারতের বাজারে প্রবেশের ব্যবস্থা করেনি। উল্টো ভারতের পণ্য অবাধে বাংলাদেশে প্রবেশের সব ব্যবস্থা করেছে। দেশ বেচার অপবাদ আমাদের ওপর দেওয়া হয়। কিন্তু দেশ বেচার কাজ তারা (বিএনপি) করে।”

৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ৪৬টি গার্মেন্ট পণ্য ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এছাড়া ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের সিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যাওয়া-আসার পথ তিন বিধা করিডোর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/জেকে/২৩০৬ ঘ.