ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সরকার ভারতকে ট্রানজিট দিয়ে দিয়েছে- বিএনপির এ দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা বলেছেন, যোগাযোগ বৃদ্ধি মানেই ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া নয়।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী ওই মন্তব্যের পাশাপাশি এও বলেছেন, “আগের অনেক সরকার বিরোধ এবং সন্দেহের জায়গায় থেকে দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে কিন্তু তারা সফল হয়নি।”

দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত হিসেবে বিবেচিত কিছু বিষয় গত দুই বছরে সমাধান হয়েছে উল্লেখ করে শনিবার এ উপদেষ্টা বলেন, “সেই উদ্যম নিয়ে আগামীতে এ ধরনের আরো সমস্যার সমাধান হবে।”

গওহর বলেন, “ইয়াংগুন হয়ে চীনের কুনমিংয়ে যোগাযোগের বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের এর কাজ শুরু করতে হবে। কারণ বিশ্বায়নের যুগে আমরা কানেক্টিভিটি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে পারি না।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুদিনব্যাপী এক সেমিনারের উদ্বোধনে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।

চলতি মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ঘোষণা প্রকাশের পর থেকেই বিএনপি দাবি করে আসছে ওই ঘোষণার মাধ্যমে ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া হয়েছে।

সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার বীনা সিক্রিও উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনার ভারত এবং মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফর দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করার ধারায় এনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বীনা সিক্রি বলেন, “কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সরকারের মনোভাব এবং জনগণের মনোভাব এক রকম হয় না। অনেক সময় সরকার যেটা করে তাতে জনগণের মতামত ভিন্ন থাকে। কারণ সরকারি পর্যায়ের মতামত জনগণ পর্যায়ের মতামত এক নয়।”

ইন্দিরার গান্ধীর পর শেখ মুজিবুর রহমানের সফর গুরুত্বপূর্ণ ফল বয়ে এনেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রায় ৪০ বছর পর এ রকম দুটি সফর বড় অগ্রগতি এনেছে।”

বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার রাজীত মিত্র বলেন, “মনমোহন সিংয়ের সফরে দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ দুইটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া আটটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েসও বক্তব্য দেন।

সেন্টার ফর অলটারনেটিভ ও ভারতের জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া যৌথভাবে ‘বিশ্বায়নের যুগে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক’ শিরোনামের এ সেমিনার আয়োজন করে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/পিডি/২১৩২ ঘ.