ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, অক্টোবর ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- যে নিরীক্ষার ভিত্তিতে গ্রামীণফোনকে সরকার তিন হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে বলেছে তা ‘ভুল ধারণার ভিত্তিতে’ হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে গ্রামীণফোনের নিরীক্ষা করা হয়নি বলেও দাবি গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ কমিউনিকেশন অফিসার কাজি মনিরুল কবির মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “অডিট চলাকালীন গ্রামীণফোন বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি তুললেও তা অডিট কোম্পানি আমলে নেয়নি।”

গ্রামীণফোনকে তিন হাজার ৩৪ কোটি টাকা পরিশোধ করতে সোমবার চিঠি দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

স¤প্রতি বিটিআরসি’র পক্ষ থেকে করা এক নিরীক্ষায় দেখা যায়, ২০১১ এর মার্চ পর্যন্ত গ্রামীণফোন (জিপি) ৩৮ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা আয় করেছে। এ হিসাবে এর দুই হাজার পাঁচশ ৪৪ কোটি টাকা বিটিআরসির পাওয়ার কথা। তবে প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার ছয়শ ২৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

বিটিআরসির চিঠি বিষয়ে গ্রামীণফোনের অবস্থান ‘পরিষ্কার’ করতে সংবাদ সম্মেলন হয় ।

‘ভুল ধারণার ভিত্তিতে’ অডিট করা হয়েছে মন্তব্য করে কাজি মনিরুল বলেন, “এ ব্যপারে মঙ্গলবার দুপুরে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।”

তিনি বলেন, “নিময় অনুযায়ী এ অডিট করা হয়নি।”

বিটিআরসি’র এ চিঠি দেওয়ার ফলে গ্রামীণফোনের শেয়ারহোল্ডারসহ বিদেশি বিনিয়োগে প্রভাব ফেলবে উল্লেখ করে মনিরুল বলেন, “বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে চাইলে অনেকে এখন এ অবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে। কারণ কার বিনিয়োগ কতটুকু নিরাপদ তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হবে।”

সাধারণ মানুষ, শেয়ার হোল্ডার , গ্রামীণফোনের পাঁচ হাজার স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কোম্পানির সঙ্গে জড়িত সাড়ে চার লাখ মানুষের কাছে অবস্থান ‘পরিষ্কার’ করার জন্যই এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মনিরুল কবির।

‘পরিষ্কারভাবে তথ্য চাওয়া হয়নি’

গ্রামীণফোন হেড অব লিগ্যাল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স জাকি ওমর সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি’র চিঠির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অডিট রিপোর্টের ‘অসঙ্গতি’ তুলে ধরেন।

ছয়টি বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা চাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে জাকি ওমর বলেন, “গ্রামীণফোনের সঙ্গে বিটিআরসি’র রাজস্ব ভাগাভাগির কথা বলা হয়েছে। এখানে কল চার্জ ছাড়া অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হওয়ায় ভুল তথ্য এসেছে। কোম্পানির মোট আয়ের রাজস্ব ভাগাভাগি করা হয় মনে করে তারা রিপোর্ট দেয়।”

“মোবাইল ফোন কোম্পানি একটি টেকনিক্যাল বিষয় তাই না বুঝেই এ রিপোর্ট করা হতে পারে এবং নিরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরিষ্কারভাবে কোনো তথ্যও চাওয়া হয়নি।”

গ্রামীণফোনের হেড অব লিগ্যাল জাকি বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল আউট গোয়িং কলের ক্ষেত্রে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে তা না বুঝেই দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এসব কলের ক্ষেত্রে আইজিডব্লিউ, আইসিএক্সদের টাকা দিয়ে মোট খরচ দেখা উচিৎ। কিন্তু তারা তা বিবেচনা না করেই এ রিপোর্ট দেয়।”

নিরীক্ষা চলাকালীন গ্রামীণফোনকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভয়েস, ইন্টারনেট ও এমএমএসের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ব্যাপারে জাকি ওমর বলেন, “গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির সঙ্গে এক বৈঠকে এসব ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়েছিল তবে কিন্তু পরে তা বিবেচনা করা হয়নি।”

তরঙ্গ বরাদ্দ চার্জের ব্যাপারে জাকি বলেন, “গ্রামীণফোন সব সময় এ চার্জ দিয়ে আসছে।”

মোবাইল ফোন সেট ও বেজ স্টেশন নিরীক্ষার ব্যাপারে জাকি বলেন, “হ্যান্ড সেটে আমাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের রাজস্ব চাওয়া হয়নি। এছাড়া বেজ স্টেশনের ফি সবসময় দেওয়া হচ্ছে।”

এনবিআর’র সিম ট্যাক্সের বিষয়ে জাকি বলেন, “এখানে যে লজিক ও মেথড দিয়ে অডিট করা হয়েছে তা নিয়ে বারবার আপত্তি জানানোর পরও তারা আমলে নেয়নি। তাছাড়া এনবিআরের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কখনো জানানো হয়নি। আর এনবিআরের বিষয়টি বিটিআরসি কেন তুলছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

গ্রামীণফোন এ পর্যন্ত কোন ট্যাক্স ফাঁকি দেয়নি বলে দাবি করেন জাকি।

‘বিটিআরসির সঙ্গে দ্বন্দ্ব নেই’

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না করলে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাজী মনিরুল বলেন, “বিটিআরসি’র সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই, এখানে সমস্যা হয়েছে নিরীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে।”

বিটিআরসি আইনি ব্যবস্থা নিলে গ্রামীণফোন পাল্টা কী ব্যবস্থা নেবে বা নিরীক্ষার ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেবে জানতে চাইলে চিফ কমিউনিকেশন অফিসার মনিরুল বলেন, “এ ব্যাপারে মন্তব্য করার মতো এখনো সময় আসেনি।”

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না করলে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়া আহমেদ।

বিটিআরসির বেঁধে দেওয়া ২১ দিনের চেয়ে গ্রামীণফোন বেশি সময় চেয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো সময় চাওয়া হয়নি।”

নিরীক্ষার সময় গ্রামীণফোন অনেক তথ্য গোপন করেছিলো দাবি করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান দুপুরে বলেন, “নিরীক্ষায় অতিরিক্ত এক কোটির বেশি গ্রাহকের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা আগে গ্রামীণফোন বিটিআরসিকে জানায়নি।”

“গ্রামীণফোন সঠিক তথ্য সরবরাহ করলে সরকারের পাওনা আরো বেড়ে যাবে।”

এ প্রসঙ্গে মনিরুল কবির বলেন, “গ্রামীণফোন সব সময় সঠিক তথ্য দিয়েছে, বর্তমানে গ্রামীণফোনের সাড়ে তিন লাখের বেশি গ্রাহক রয়েছে এবং এখানে কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।”

আগামী নভেম্বরে টুজি লাইসেন্স নবায়নে গ্রামীণফোনকে একটি বড় অংকের টাকা পরিশোধ করতে হবে। তাছাড়া ভবিষ্যতে থ্রিজি লাইসেন্স নিতেও বড় অংকের টাকা প্রয়োজন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিটিআরসির এ চিঠি পেয়ে আমরা হতাশা ব্যক্ত করছি।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/পিডি/২০৪২ ঘ.