ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, অক্টোবর ১২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সৌদি আরবে আট বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ ঠেকাতে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ ছিলো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা বা ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে তার কারণ জানাতে হবে।

এক আবেদনে বুধবার বিচারপতি ফরিদ আহম্মেদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এর জবাব দিতে হবে পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিভাগের পরিচালক, রিয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলরকে।

একইসঙ্গে ‘ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনে সহায়তা প্রদানের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তার কারণও পাঁচ জনকে জানাতে বলা হয়েছে।

এক মিসরীয়কে হত্যার দায়ে গত শুক্রবার রিয়াদে আট বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর তীব্র সমালোচনা করে আসছে।

সৌদি সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, এ মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও হত্যাকাণ্ডের শিকার মিসরীয় ব্যক্তির স্বজনরা ক্ষমা করতে রাজি না হওয়ায় কিছু করা যায়নি।

ঘটনার শিকার আট বাংলাদেশীর জীবন রক্ষার্থে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিলো, আরো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিলো কিনা, এসব বিষয় তদন্ত করতে পৃথক দুটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করতেও বলেছে হাইকোর্ট।

পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব এই দুটি কমিটি গঠন করবেন। দুই কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করতে আট সপ্তাহ সময় পেয়েছে।

এছাড়া চার সপ্তাহের মধ্যে ওই ঘটনায় বাংলাদেশিদের জীবন রক্ষায় সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক গৃহিত পদক্ষেপের বিবরণ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলেছে আদালত।

মঙ্গলবার হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী এ আবেদনটি করেন। আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএন/আরএ/এমআই/১৩৫২ ঘ.