ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, অক্টোবর ১৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বহু আলোচিত তিনবিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার অনুষ্ঠানে আসছেন না ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরাম। এর মধ্য দিয়ে ভারত সরকার তাদের বাংলাদেশ-কূটনীতিতে ‘ভুলের’ পুনরাবৃত্তি করলো বলে উল্লেখ করেছে সে দেশের একটি বাংলা দৈনিক।

ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল) মনোজ কুমার মহাপাত্র বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘অন্য একটি বৈঠক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরামের সফর বাতিল করা হয়েছে। তার বদলে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোলাম নবী আজাদ এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং দহগ্রাম সীমান্তের ভারতীয় অংশে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাবেন।

গত ৬ সেপ্টেম্বর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দুই দিনের মাথায় ৮ সেপ্টেম্বর সব সময়ের জন্য খুলে দেওয়া হয় দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার প্রবেশদ্বার তিনবিঘা করিডোর। দহগ্রাম ঘুরে দেখে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বেলা ১১টায় লালমনিরহাট পৌঁছান।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সব আয়োজন শেষ হয়েছে। জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক সমাগম হবে বলে আশা করছি আমরা।”

চিদাম্বরামের না আসার বিষয়টি উল্লেখ করে ভারতের সবচেয়ে বেশি পঠিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘তিস্তা চুক্তির খসড়া তাকে না-দেখানো যে ভুল হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তা স্বীকার করেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। কিন্তু বাংলাদেশ-কূটনীতি নিয়ে ফের একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি করল কেন্দ্র।

“পশ্চিমবঙ্গের ভূখণ্ডে ঘেরা বাংলাদেশের ছিটমহল পরিদর্শনে বুধবার আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু মমতাকে সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পাশাপাশি, হাসিনাকে স্বাগত জানাতে সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরমের যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তার সফর বাতিল করা হয়েছে।”

সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরে তিস্তার পনিবণ্টন নিয়ে চুক্তি এবং ট্রানজিটের সম্মতিপত্র বিনিময় হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় শেষ মুহূর্তে পানি ভাগাভাগি নিয়ে আপত্তি তোলায় চুক্তির বিষয়টি আটকে যায়। ফলে ট্রানজিটের বিষয়টিও আপাতত স্থগিত রাখার পদক্ষেপ নেওয়া হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।

সে সময় মনোমহন সিংও বলেন, তিস্তা চুক্তি না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।

দুই দেশের সেই শীর্ষ সম্মেলনে তিস্তা চুক্তি না হলেও ১৯৭৪ সালের চুক্তির আওতায় একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় দুই দেশের ছিটমহলগুলো বিনিময় করা হবে। তিনবিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ঘোষণা দেওয়া হয় সে সময়ই।

কাগজে-কলমে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার অধীন হলেও দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যাওয়ার পথ হিসেবে ১৯৯২ সালের ২৬ জুন তিন বিঘা জমি ইজারা পায় বাংলাদেশ। এটিই পরিচিত হয় তিন বিঘা করিডোর নামে।

৮ সেপ্টেম্বর এই করিডোর সব সময়ের জন্য খুলে দেওয়ার পর উল্লাসে মেতে ওঠে ছিটমহলের বাসিন্দারা। তাদের কাছে এ যেন ‘সত্যিকারের’ স্বাধীন হওয়ার আনন্দ।

বুধবার তিন বিঘায় উপস্থিত হয়ে সেই ‘স্বাধীনতারই’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের ভেতরে ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল এবং ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল রয়েছে। ১৯৭৪ সালের চুক্তির আওতায় চলতি বছর স্বাক্ষরিত প্রটোকলের মাধ্যমে এসব ছিটমহল বিনিময় করবে দুই দেশ। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে সাড়ে ৬ কিলোমিটার অচিহ্নিত সীমানা এবং অপদখলীয় ভূমি সমস্যারও সমাধান করা হবে এর মাধ্যমে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআই/জেকে/১২৪৭ ঘ.