ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

লালমনিরহাট, অক্টোবর ১৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিএনপি আমলের দুর্নীতির কারণেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়ন স্থগিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বিকেলে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক জনসভায় তিনি বলেন, বিএনপি আমলের যোগাযোগমন্ত্রীর দুর্নীতির দুটি ডকুমেন্ট বিশ্বব্যাংকের কাছে গেছে। তারপরই তারা অর্থায়ন স্থগিত করেছে।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প তদারকির জন্য প্রাক নির্বাচনী তালিকায় থাকা কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের ‘দুর্নীতি’র তদন্তে বিশ্বব্যাংক কানাডা পুলিশকে অনুরোধ করলে পদ্মা সেতুতে ‘দুর্নীতি’র বিষয়টি প্রকাশ্য হয়।

এরপরই এ প্রকল্পে অর্থায়ন স্থগিতের কথা জানায় বিশ্বব্যাংক। দেশের সর্ববৃহৎ এ নির্মাণ প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা সংস্থাটির।

অবশ্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ সরকারের মন্ত্রীরা বলে আসছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি।

বিরোধী দলীয় নেতার সমালোচনা করে জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, “আমি চাই দেশে যাতে হরতাল, খুন, জঙ্গিবাদ না থাকে। দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে। বিজয়ী হিসেবে আমরা বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলতে চাই। কিন্তু খালেদা জিয়া চান দেশের মানুষ মাথা হেঁট করে চলুক। তিনি জঙ্গি আর সন্ত্রাসীদের নিয়েই থাকেন।”

বিকেল ৩টায় এই জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার প্রবেশদ্বার তিন বিঘা করিডোর পরিদর্শন করেন। বেলা পৌনে ১টার দিকে তিন বিঘা করিডোর গেটে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোলাম নবী আজাদ ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র প্রসাদ সিং।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ভারতের সঙ্গে বর্তমান সময়ের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে এক দিন সব সমস্যার সমাধান হবে। আশা করছি, শিগগির তিস্তা চুক্তি করতে পারবো।”

ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “ইতোমধ্যে প্রটোকল সম্পন্ন করেছি। আশা করছি, এ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে।”

ট্রানজিট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এক কথায় বলেন, “আমরা সব সময় কানেক্টিভিটিতে বিশ্বাস করি।”

করিডোর পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি লিচু গাছের চারা রোপণ করেন।

বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমান বন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে সৈয়দপুর যান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে হেলিকাপ্টারে লালমনিরহাট পৌঁছান বেলা ১১টায়। সাড়ে ১২টার দিকে দহগ্রাম দ্বিমুখী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা বিদ্যুৎ সঞ্চালন কার্যক্রম, দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এবং ১০ শয্যার দহগ্রাম হাসপাতাল উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর তিনি তিনবিঘা করিডোরে যান।

গত ৬ সেপ্টেম্বর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দুই দিনের মাথায় ৮ সেপ্টেম্বর সব সময়ের জন্য খুলে দেওয়া হয় দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার প্রবেশদ্বার তিন বিঘা করিডোর। এর আগ পর্যন্ত ওই করিডোর দিয়ে ভারতের নিরাপত্তারক্ষীদের পাহারার মধ্যে কেবল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলাচল করতে পারতো বাংলাদেশিরা। সন্ধ্যার পর বন্ধ হয়ে যেতো ‘তিন বিঘা গেইট’।

কাগজে-কলমে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার অধীন হলেও দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যাওয়ার পথ হিসেবে ১৯৯২ সালের ২৬ জুন ওই তিন বিঘা জমি ইজারা পায় বাংলাদেশ।

৮ সেপ্টেম্বর এই করিডোর সব সময়ের জন্য খুলে দেওয়ার পর উল্লাসে মেতে ওঠে ছিটমহলের বাসিন্দারা। তাদের কাছে এ যেন ‘সত্যিকারের’ স্বাধীন হওয়ার আনন্দ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআই/এএল/জেকে/১৭৩৪ ঘ.