ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

রিয়াজুল বাশার
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

ঢাকা, অক্টোবর ২০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)।

এ বৈঠক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আইনি সীমার মধ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এবিবির সভাপতি ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে মাহমুদ সাত্তার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আইনি সীমার নিচে যাদের বিনিয়োগ রয়েছে বৈঠকে তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বলবো।”

“বাজারের পিই এখন অনেক কম। এটা বিনিয়োগের জন্য ভালো সময়,” মন্তব্য করেন তিনি।

টানা দরপতনের ধারা থেকে দেশের দুই পুঁজিবাজারকে টেনে তুলতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এবিবির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানের বৈঠকের দুই দিনের মাথায় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার মোট দায়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু গতবছর বেশ কয়েকটি ব্যাংক সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ করে পুঁজিবাজার থেকে মুনাফা তোলে।

অনেকেই মনে করেন, গত বছর ব্যাংকগুলোর সীমার অতিরিক্তি বিনিয়োগ পুঁজিবাজারকে ফুঁলে ফেঁপে উঠতে উৎসাহ জোগায়।

গত ৫ ডিসেম্বর ডিএসই সাধারণ সূচক ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্টে পৌঁছে রেকর্ড সৃষ্টি করে। এরপর থেকে শুরু হয় অস্থিরতা। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি জুড়ে চলে ব্যাপক দরপতন।

গত জুনে বাজেটে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ায় একমাস চাঙ্গাভাব দেখা দেয়। এরপর জুলাইয়ের শেষ থেকে আবার পতন শুরু হয়।

বুধবার সাধারণ সূচক কমে প্রায় নয় মাস আগের অবস্থায় চলে এসেছে। গত তিন মাসের ব্যবধানে সূচক কমেছে প্রায় ১৪৫২ পয়েন্ট।
এদিকে এবছর পুঁজিবাজারে মন্দাভাব থাকলেও ব্যাংকগুলো তাদের বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে গড় বিনিয়োগ তাদের মোট দায়ের ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

তাই পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আহসানুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০১০ সালে ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এটা পাবলিকের টাকা। তাই এই টাকা আবার বাজারে নিয়ে আসা তাদের দায়িত্ব।”

“গত ডিসেম্বরে তাদের বিনিয়োগ ছিল অনেক বেশি। কিন্তু এখন তাদের বিনিয়োগ অনেক কম। পাবলিকের কাছে তারা শেয়ার বিক্রি করে গেছে। তাই পুঁজিবাজারে তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অবশ্যই অবশ্যই তাদের বিনিয়োগ করতে হবে”, যোগ করেন তিনি।

আহসানুল ইসলাম জানান, বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ রয়েছে ১৯ হাজার কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা রয়েছে তাদের ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা মার্জিন ঋণ হিসাবে।

ব্যাংকগুলো আর কী পরিমাণ বিনিয়োগ করলে বাজার স্থিতিশীল হতে পারে- জানতে চাওয়া হলে ডিএসই সহ-সভাপতি বলেন, “এখন ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ নিয়ে এলেই বাজার দাঁড়িয়ে যাবে।

“তবে এ অর্থ থেকে মার্জিন ঋন দেওয়া যাবে না। মার্জিন ঋণ দিলে বাজার আবার নষ্ট হবে। ব্যাংকগুলোকে হয় পোর্টফোলিও বিনিয়োগে যেতে হবে। না হলে তাদের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/আরবি/জেকে/০৮৫৫ ঘ.

_________________
সংবাদটি পাঠকের মন্তব্যের জন্য ব্লগে শেয়ার করা হলো। বিডিনিউজ টুয়েন্টিফর ডটকম ব্লগ একটি সিটিজেন জার্নালিজম ভিত্তিক ব্লগ। এ সংবাদটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে লিখতে পারেন স্বতন্ত্র পোস্টে। পডকাস্ট করতে পারেন অডিও, ভিডিও মাধ্যমে। কোনো পরামর্শ বা অভিযোগ থাকলে যোগাযোগ করুন ফেসবুক গ্রুপে