ক্যাটেগরিঃ bdnews24

সৈয়দ নাহাস পাশা
লন্ডন থেকে

লন্ডন, অক্টোবর ২১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হয়নি দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, সরকার কেবল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যাপারে একটি তদন্ত করেছে, যাতে বেরিয়ে এসেছে অনেক অসঙ্গতি।

বৃহস্পতিবার লন্ডনে কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, “কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, আইন অমান্য করে, আর এর জন্য দেশ ও দেশের মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়, তাহালে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। নারী-পুরুষ যেই হোক, সমাজে কেউ ক্রমাগত আইন অমান্য করতে পারেন না।”

নোবেলজয়ী গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে সরকার এর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে- ইউনূসের এই অভিযোগের জবাবেই দৃশ্যত সরকারের বক্তব্য তুলে ধরলেন দীপু মনি।

ইউনূসকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “শুধু বিশ্বব্যাপী আপনার বন্ধু-বান্ধব আছে বলেই আপনি আইন অমান্য করে যাবেন- তা হতে পারে না।”

অনুমতি না নিয়ে পদে থাকার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২ মার্চ নোবেলজয়ী ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অব্যাহতি দেয়। ইউনূস ওই আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও আইনি লড়াইয়ে হেরে যান। এরপর ১২ মে ‘ইস্তফা’ দেন তিনি।

এর মাঝে গ্রামীণ ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম তদন্তে সরকার এই পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ব্যাংকটি পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসঙ্গতির চিত্র উঠে আসে।

ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের কক্ষে ‘আনলকিং দ্যা পোটেনশিয়াল অব ডায়াসফোরা’ শীর্ষক এই সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ইউনূসের ব্যাপারে সরকার শুধু একটি তদন্ত করেছে। তদন্ত অনেক জিনিস বেরিয়ে এসেছে। আমরা তাকে আদালতে নেইনি। তিনিই আদালতে গিয়েছেন।”

‘সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য গর্বিত’- এমন মন্তব্য করে দীপু মনি বলেন, “এটি একটি নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠান। একটি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। এটি রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ। অথচ বিশ্বে এ প্রতিষ্ঠানকে একটি এনজিও হিসাবে প্রমোট করা হয়েছে। এটি এনজিও নয়।”

এক অধ্যাদেশের আওতায় সরকার ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। ওই সময়ই ড. ইউনূসকে এ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছর অব্যাহতির আগ পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন।

দীপু মনি বলেন, “যুক্তরাজ্যে বা অন্য কোথাও কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে এভাবে চলতে দেওয়া হয় না। আমরা এই প্রতিষ্ঠানকে বাধা দেইনি। বরং এটিকে লালনপালন করেছি। আমরা এর সাফল্য এবং ঋণগ্রহীতাদের ব্যাপারে প্রতিশ্র”তিবদ্ধ।”

“দায়িত্বশীল সরকার হিসাবে একজন সাধারণ মানুষের জন্য আইন প্রয়োগ করবো, আর একজন সেলিব্রিটির জন্য তা প্রয়োগ করবো না- তা হতে পারে না”, যোগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ‘ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার হয়। এতে গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল গ্রামীণ কল্যাণ নামে সহযোগী একটি প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে ইউনূসের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলে সরকার পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে।

দীপু মনি বলেন, “হয়তো আমাদের সরকার তার বিষয়টি না ছুঁলে ভাল হতো।… কিন্তু নরওয়েজিয়ান মিডিয়ায় বিষয়টি উন্মোচিত হওয়ার পরে আমাদের মিডিয়াতেও বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে আসে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসাবে আমাদের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই হয়েছে।”

অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ফাউলার, বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস বাংলার সম্পাদক সাবির মোস্তফা, ব্যবসায়ী ইকবাল আহমদ ওবিই, ইমিগ্রেশন অ্যাডভাইজরি সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা কিথ বেস্ট ও ইফতি ইসলাম আলোচনায় অংশ নেন।

কমনওয়েলথ জানার্লিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিটা পেইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে লেবার পার্টির এমপি কিথ ভাজ ও রুশনারা আলী উপস্থিত ছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/জেকে/২০২৫ ঘ.

_________________
সংবাদটি পাঠকের মন্তব্যের জন্য ব্লগে শেয়ার করা হলো। বিডিনিউজ টুয়েন্টিফর ডটকম ব্লগ একটি সিটিজেন জার্নালিজম ভিত্তিক ব্লগ। এ সংবাদটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে লিখতে পারেন স্বতন্ত্র পোস্টে। পডকাস্ট করতে পারেন অডিও, ভিডিও মাধ্যমে। কোনো পরামর্শ বা অভিযোগ থাকলে যোগাযোগ করুন ফেসবুক গ্রুপে