ক্যাটেগরিঃ bdnews24

নয়া দিল্লি, অক্টোবর ২২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ সৃষ্টির জন্য ‘কিছু ব্যক্তিকে’ দায়ী করেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা শনিবার বলেন, [তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে] কিছু ব্যক্তি ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছিল… আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেছি। আশা করি ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে।”

নয়া দিল্লিতে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের বৈঠকের এক ফাঁকে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তা চুক্তি না হওয়া নিয়ে প্রবল আলোচনার দেড় মাসের মাথায় এ নিয়ে কথা বললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

গত ৬-৭ সেপ্টেম্বরের ওই সফরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। তবে মমতা শেষ মুহূর্তে রাজি না হওয়ায় চুক্তিটি হয়নি বলে ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়।

ওই সফরেই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া বিষয়ে দুদেশের মধ্যে একটি সম্মতিপত্র বিনিময় হওয়ার কথা থাকলেও তাও বিনিময় হয়নি।

সফরে মনমোহনের সঙ্গে মমতার বাংলা দেশে আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি।

তিন বিঘায় না থাকা প্রসঙ্গ

বাংলাদেশি ছিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার প্রবেশদ্বার তিন বিঘা করিডোর সব সময়ের জন্য খুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা না জানানোর বিষয়েও শনিবার কথা বলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন বিঘা করিডোর দিয়ে ১৯ অক্টোবর দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যাচ্ছেন তা নয়া দিল্লি তাকে [মমতাকে] জানায়নি।

ওই করিডোর সার্বক্ষণিক খোলা রাখা বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার কোনো দ্বিমত নেই বলে জানান মমতা।

তিনি বলেন, “তিন বিঘা আমাদের সরকারের [পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার] বিষয় নয়। এ বিষয়ে আমি জানি না। এটা ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের বিষয়।”

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তিন বিঘায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে জানানো হয়েছিল।

গত ১৯ অক্টোবর শেখ হাসিনা যখন তিন বিঘা করিডোরে যান তখন সেখানে মমতা বন্দোপাধ্যায় বা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। এর ফলে একটি ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে ওই করিডোর সব সময়ের জন্য খুলে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের পক্ষে নয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

গত ৬ সেপ্টেম্বর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দুই দিনের মাথায় ৮ সেপ্টেম্বর সব সময়ের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

এর আগ পর্যন্ত ওই করিডোর দিয়ে ভারতের নিরাপত্তারক্ষীদের পাহারার মধ্যে কেবল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলাচল করতে পারতো বাংলাদেশিরা। সন্ধ্যার পর বন্ধ হয়ে যেত ‘তিন বিঘা গেইট’।

কাগজে-কলমে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার অধীন হলেও দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যাওয়ার পথ হিসেবে ১৯৯২ সালের ২৬ জুন ওই তিন বিঘা জমি ইজারা পায় বাংলাদেশ।

‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে জানানো হয়েছিল’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিষ্ণু প্রকাশ বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে জানার পরপরই বিশেষ অতিথির [শেখ হাসিনা] অনুষ্ঠান সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে জানানো হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যাচ্ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।”

১৯ অক্টোবর হাসিনাকে তিন বিঘায় স্বাগত জানান ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোলাম নবী আজাদ ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম হাসিনাকে স্বাগত কথা থাকলেও পারিবারিক জটিলতার কারণে তিনি যেতে পারেনি।

চিদাম্বরমের না যাওয়া নিয়ে শনিবার একটি বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিষ্ণু প্রকাশ বলেন, হাসিনাকে স্বাগত জানাতে পি চিদাম্বরমের তিন বিঘা করিডোরে যাওয়ার কথা। কিন্তু ওই দিন তার ৯১ বছর বয়সী মা পড়ে গিয়ে কোমড়ে আঘাত পান। ওই দিন (১৯ অক্টোবর) তার একটি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা।

“এ কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চেন্নাই ছুটে যেতে হয়।”

বিষ্ণু বলেন, “এর পর প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং চাইলেন বাংলাদেশের সঙ্গে সুদীর্ঘকাল পরিচিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজাদ যেন শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে ভারত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তিন বিঘা করিডোর দিয়ে তিনি [শেখ হাসিনা] দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা সম্মানিত বোধ করি।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/পিডি/২৩৩০ ঘ.

_________________
সংবাদটি পাঠকের মন্তব্যের জন্য ব্লগে শেয়ার করা হলো। বিডিনিউজ টুয়েন্টিফর ডটকম ব্লগ একটি সিটিজেন জার্নালিজম ভিত্তিক ব্লগ। এ সংবাদটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে লিখতে পারেন স্বতন্ত্র পোস্টে। পডকাস্ট করতে পারেন অডিও, ভিডিও মাধ্যমে। কোনো পরামর্শ বা অভিযোগ থাকলে যোগাযোগ করুন ফেসবুক গ্রুপে