ক্যাটেগরিঃ bdnews24

নারায়ণগঞ্জ, অক্টোবর ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নারায়ণগঞ্জে ভোটারদের সামনে সরাসরি বিতর্ক অনুষ্ঠানের মঞ্চ পুরোপুরি প্রস্তুত। ভোটযুদ্ধের আগে বাগযুদ্ধ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এ বিতর্ক অনুষ্ঠান ঘিরে ইতোমধ্যে ভোটারদের আগ্রহ জমে উঠেছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাব চত্বরের মুক্তমঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদের ছয় প্রার্থী।

মুক্তমঞ্চ থেকে এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমেও দেড় ঘণ্টার বিতর্কটি সরাসরি (ওয়েবকাস্ট) দেখা যাবে।

নির্বাচন কমিশন আয়োজিত এ বিতর্ক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন।

বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজনের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রার্থীরা কেন নেতৃত্ব নিতে চান, এলাকাবাসীর জন্য তাদের পরিকল্পনা কী, ভোটারদের চাওয়া-পাওয়া কী- সরাসরি দুই পক্ষের যোগসূত্র স্থাপনের জন্যই এ অনুষ্ঠান।”

বিতর্ক অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম- এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

বিতর্ক অনুষ্ঠানের নির্বাহী প্রযোজক মোহাম্মদ শরীফ উল¬াহ মঙ্গলবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, বিতর্ক অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ এখন প্রস্তুত। ছয় মেয়র প্রার্থী বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন।

শরীফ জানান, অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের সব শ্রেণী-পেশার ভোটারের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। দেড়শ জন নির্বাচিত ভোটার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারবেন। প্রার্থীরা উপস্থিত ভোটারদের প্রশ্নের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে আরো ৫০ জন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিতর্ক মঞ্চে সাতটি ডায়াস স্থাপন করা হয়েছে। মাঝের ডায়াস থেকে তৌফিক ইমরোজ খালিদী সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করবেন। তার উভয় পাশে তিন জন করে প্রার্থী থাকছেন।

নারায়ণগঞ্জের মেয়র হওয়ার জন্য ৩০ অক্টোবর চূড়ান্ত ভোট যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের শামীম ওসমান, দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভী, আনারস প্রতীক নিয়ে বিএনপির তৈমুর আলম খন্দকার, গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী। এয়াড়া নির্দলীয় প্রার্থী শরীফ মোহাম্মদ হাঁস প্রতীক নিয়ে ও আতিকুল ইসলাম জীবন তালা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্দলীয় এ নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে বিতর্ক আয়োজনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা এর আগে বলেছিলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ও জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণে প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী বিতর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায় নির্বাচন কমিশন। প্রার্থী সম্পর্কে ভোটারদের কাছে ব্যাপকভাবে তথ্য পৌঁছানোর জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান।

প্রথমবারের মতো নির্বাচনী বিতর্ক ওয়েবকাস্টের উদ্যোগের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সিইসি বলেন, “শুধু এলাকাবাসী নয়, বহির্বিশ্বেও প্রবাসীরা যেন প্রার্থীদের নিয়ে এ বিতর্ক দেখতে পারে, সে জন্য এ ব্যবস্থা। প্রার্থীদের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা কী এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরা কী করতে চান- এ বিতর্কে তার আভাসই পাবে জনগণ।”

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে ২০০৮ খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল এবং ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী সংলাপের আয়োজন করে।

শরীফ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আগের নির্বাচনী বিতর্ক থেকে এবারের অনুষ্ঠানের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আগের অনুষ্ঠানটি টেলিভিশনে দেখানো হলেও সেগুলো ছিলো মূলত বেতারের উপযোগী পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে। এবার পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন অনুষ্ঠান হচ্ছে।”

এক নজরে ছয় প্রার্থী

সেলিনা হায়াৎ আইভী: নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইভী এর আগে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। সাত বছর এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নিজের দল আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেলেও নির্বাচনী লড়াই থেকে পিছু হটেননি পেশায় চিকিৎসক আইভী। আইভীর বাবা আলী আহম্মদ চুনকা নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। আইভীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।

শামীম ওসমান: নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য শামীম ওসমান ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রার্থিতার ক্ষেত্রে দলের সমর্থনও পেয়েছেন তিনি। এলএলবি ডিগ্রিধারী শামীম নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় পেশা উলে¬খ করেছেন ব্যবসা। শামীমের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। শামীমের দাদা খান সাহেব ওসমান আলী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। তার বাবা এ কে এম শামসুজ্জোহা সংসদ সদস্য ছিলেন। শামীমের বড় ভাই নাসিম ওসমান বর্তমানে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য। তার আরেক ভাই সেলিম ওসমান ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি।

তৈমুর আলম খন্দকার: সরকারি দলের দুজন হলেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সমর্থিত একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তৈমুর আলম খন্দকার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এলএলবি ডিগ্রিধারী ৫৮ বছর বয়সি তৈমুর জেলা বিএনপির সভাপতি। তার দল ক্ষমতায় থাকার সময় বিআরটিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর আগে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। তৈমুরের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বেশ কয়েকটি।

আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী: ইসলামী আন্দোলনের নেতা আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। ৫৩ বছর বয়সি এ প্রার্থীর পেশা ব্যবসা। নান্নু মুন্সীর বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

আতিকুল ইসলাম জীবন : তরুণ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম জীবন মেয়র পদে প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সি তিনি, তার বয়স ২৭ বছর। আতিকুলের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী পাস। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন আতিকুল।

শরীফ মোহাম্মদ: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার ছকে ‘অক্ষরজ্ঞান’সম্পন্ন লিখেছেন শরীফ মোহাম্মদ। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন ৫১ বছর বয়সি এ ব্যক্তি। একটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এক নজরে এনসিসি

গত ২২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ২ অক্টোবর ছিলো মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন, প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিলো ১২ অক্টোবর।

এ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব বিশ্বাস লুৎফুর রহমান ৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচন পরিচালনা করছেন।

এ সিটি কর্পোরেশনে সাধারণ ওয়ার্ড ২৭টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৯টি। এ নির্বাচনী এলাকার ৪ লাখ ৪ হাজার ১৮৯ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩ হাজার ৩৪৪ জন ও মহিলা ২ লাখ ৮৪৫ জন।

ভোটকেন্দ্র ১৬৩টি ও ভোটকক্ষ ১২১৭টি। এর বিপরীতে ১৬৩ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ১২১৭ সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ২৪৩৪ জন পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন।

মেয়র পদে ছয় জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫০ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে গত ১৩ অক্টোবর।

দেশে দ্বিতীয়বারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে।

নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে দৃঢ়, ফল ঘোষণা তাড়াতাড়ি করা, নির্বাচনোত্তর সহিংসতা কমানো, নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় কমানো ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোসহ আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে ইভিএম’র উদ্যোগ বলে ইসির বক্তব্য। তবে প্রধান বিরোধী দল ইভিএম নিয়ে তাদের আপত্তি জানিয়ে আসছে।

নারায়ণগঞ্জে ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯টি ওয়ার্ডের (৭, ৮, ৯, ১৬, ১৭, ১৮, ২২, ২৩, ২৪) মোট ৫৮ কেন্দ্রের ৪৫০টি বুথে একটি করে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ওয়ার্ডের ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৯ জন।

এর আগে গত বছরের জুনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মাত্র একটি ওয়ার্ডে (চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখান রোড এলাকার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে।) ইভিএম ব্যবহার হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/এমএইচসি/এমআই/১৭২৫ ঘ.