ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, অক্টোবর ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী চেয়েও না পাওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব।

স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষপাতি না হলেও নারায়ণগঞ্জে কয়েক প্রার্থীর দাবির মুখে এ সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নারায়ণগঞ্জে শুক্রবার সকাল ৮টায় চার কোম্পানি সেনাসদস্য টহলে নামবে বলে ইসি কর্মকর্তারা বলে আসছিলেন।

কিন্তু তা না হওয়ায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদা জানান, নির্বাচনে সেনা সদস্য পাচ্ছে না ইসি।

সৈন্য চেয়ে গত ১৬ অক্টোবর সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়ে সেনা মোতায়েন না হওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ তথা সরকারকেই দায়ী করেন সিইসি।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর নির্বাচন কমিশনকে অনেক ক্ষমতা দেওয়ার কথা সরকারি দলের নেতারা বলে আসছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে সেনা পেতে ব্যর্থতা তাদের সে বক্তব্যকেও প্রশ্নবিদ্ধ করলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল থেকে সেনাসদস্য নামবে এটা ঠিকঠাকই ছিলো। সকালে সেনাবাহিনী না যাওয়ায় সরকারি মহলে যোগাযোগ করা হলে বলা হয়, বিকালেই যাবে। বিকাল ৫টায়ও না গেলে নির্বাচন কমিশন বুঝতে পারে, সেনাবাহিনী নারায়ণগঞ্জে যাচ্ছে না।”

নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদেরকে কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে কেউ কিছু জানায়নি। সেনা মোতায়েনে আমরা ওয়াদা করেছিলাম। সে অনুযায়ী চেষ্টাও করেছি। এখন কেউ যদি তার কাজ না করে, আমি কী করতে পারি?

“এটা সরকারের অমনোযোগিতা বা কী কারণে হয়েছে, আমি জানি না। না দিতে পারলেও তাদের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন ছিলো। এর পূর্ণ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যে তারা দিতে পারলো না। পরবর্তীকালে আমরা জানতে চাইবো, কেন দেওয়া হয়নি।”

সিইসি বলেন, “সাংবিধানিকভাবে তারা দিতে বাধ্য। তবে আমি আইনের কথা বলবো না। এটা মিউচুয়াল ডিসকাশনের মাধ্যমে হয়। তাদের উচিত ছিলো, আমাদের সঙ্গে কথা বলা।”

সব নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে ব্যক্তিগত অবস্থানের কথা জানিয়ে শামসুল বলেন, “এরপরও আমরা এটা (সেনা মোতায়েন) চেয়েছি, যেহেতু জনগণ বারবার দাবি করতে লাগলো।”

আগামী রোববার ভোটগ্রহণের ৩৮ ঘণ্টা আগে শামসুল হুদা ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আজ সকাল থেকে সেনা মোতায়েন হওয়ার কথা ছিলো। যেহেতু সেনাবাহিনী সেখানে যায়নি, তাই আমরা ধরে নিলাম, সেখানে সেনা মোতায়েন হচ্ছে না।”

তার এ বক্তব্যের পরপরই নারায়ণগঞ্জে বিএনপি সমর্থক মেয়রপ্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীও সেনা মোতায়েন না করার সমালোচনা করেন। তবে মূল শক্তিশালী তিন প্রার্থীর অন্যজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত শামীম ওসমান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

সেনা মোতায়েন না হলেও নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে শামসুল হুদা বলেন, “এই অবস্থায় আমাদের কাছে দুটি বিকল্প আছে, একটি হচ্ছে নির্বাচন স্থগিত করে দেওয়া। কারণ এখানে জনগণের আস্থার একটি বিষয় আছে। অন্যটি হচ্ছে ঘাটতি পূরণ করে নির্বাচনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

“সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক, যা আগামী ২ নভেম্বর শেষ হচ্ছে। তাই নির্বাচন একবার স্থগিত করে দিলে আবার এর আয়োজন করতে আমাদের অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তাই সেটা সম্ভব না।”

নির্বাচন স্থগিত করলে জনগণ ও প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা নেমে আসবে বলে মনে করেন সিইসি। তাই নির্বাচন করার সিদ্ধান্তের কথাই জানালেন তিনি।

শামসুল হুদা বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আমরা অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, র‌্যাবের মহাপরিচালকের সঙ্গেও কথা বলেছি, তারা অতিরিক্ত র‌্যাব দিতে পারবে কি-না। তারা দিতে পারবে বলেছে। আমরা অতিরিক্ত ১০০ সদস্য চেয়েছি। এখন তারা যা দিতে পারে দেবেন।”

নারায়ণগঞ্জবাসীকে আশ্বস্ত করে সিইসি বলেন, “আমি আশ্বস্ত করতে চাই, পরিবেশ সুষ্ঠু আছে, কোনো সমস্যা নেই। কোনো ভোট কেন্দ্রে কোনো ধরনের গোলযোগ দেখা দিলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবো। প্রয়োজনে ভোট বন্ধ করে দেবো।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএন/এমএইচসি/এমআই/২১৪০ ঘ.