ক্যাটেগরিঃ bdnews24

নারায়ণগঞ্জ, অক্টোবর ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র হিসেবে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত।

রোববারের নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ১০১৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আইভী।

ঘোষিত ফলাফলে, ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রে আইভী পান ১৮০০৪৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান পান ৭৮৭০৫ ভোট।

৩৭ বছর আগে আইভীর বাবা আলী আহম্মদ চুনকাও তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থন ছাড়াই স্বাধীন বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নারায়ণগঞ্জে জিয়া হলে স্থাপিত নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে রোববার রাত ১২টা ৫১ মিনিটে রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুৎফর রহমান আইভীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

নির্বাচনে চার লক্ষাধিক ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ২৮২৫৯৩ জন যা মোট ভোটের ৬৯ দশমিক নয় দুই শতাংশ। এর মধ্যে বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে ২৭৬৩২৯টি ভোট।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার পান ৭৬১৬ ভোট।

পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার আগে নিজেকে বিজয়ী দাবি করে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আইভী সাংবাদিকদের বলেন, তার এ জয় জনতার জয়।

পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণার আগেই সব কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে আইভীর সমর্থকরা বলেন, সোয়া এক লাখ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন আইভী। তার ফেইসবুক ফ্যানপেইজেও ভোট গণনার বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ হয়। তাতে দেখা যায়, ১৬৩ কেন্দ্রের ফলাফলে আইভী ১ লাখ ২৪ হাজার ভোটে জয়ী হন।

আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ফলাফল নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

জিয়া হলে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ফলাফল ঘোষণার সময় শামীম ওসমানের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তার হোসেন, আইভীর পক্ষে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রার্থী আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী ও আতিকুল ইসলাম জীবন উপস্থিত ছিলেন।

সেনা মোতায়েন না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নতুন এ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় শান্তিপূর্ণভাবে।

সেনা মোতায়েন না হওয়াসহ কয়েকটি কারণ দেখিয়ে ভোটগ্রহণের মাত্র সাত ঘণ্টা আগে শনিবার মধ্যরাতে নির্বাচন বর্জন এবং নিজেদের প্রার্থীকে [তৈমুর আলম খন্দকার] নির্বাচন থেকে বিরত রাখার ঘোষণা দেয় বিএনপি।

তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, নির্বাচনে তৈমুর প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিলেন ৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার নির্বাচন কর্মকর্তা।

দেশে দ্বিতীয় বারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হয় এ নির্বাচনে। ৯টি ওয়ার্ডের ৫৮টি কেন্দ্রের ৪৫০টি বুথে একটি করে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। ভোটের সময় কয়েকটি ইভিএমে জটিলতা দেখা দিলেও পরে তা ঠিক করা হয়।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এ নির্বাচনে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা দিয়ে ২০টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচন কমিশন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুৎফর রহমান জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আট হাজারেরও বেশি সদস্য এই নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। এর মধ্যে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের চার হাজার, আনসার ও ভিডিপি সদস্য আড়াই হাজার, কোস্ট গার্ডের একশ এবং এক হাজার চারশ’ র‌্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

দেশি ১৮টি এবং বিদেশি আটটি পর্যবেক্ষক সংস্থার হাজার খানেক পর্যবেক্ষক এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত আটশ’রও বেশি সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/এসআই/এএইচ/এনআইএইচ/পিসি/এমএইচপি/ পিডি/০২৩৫ ঘ.