ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, নভেম্বর ০১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নারায়ণগঞ্জে সাজানো নির্বাচনের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, ভোটে কে জিতবে তা প্রধানমন্ত্রী আগেই জানতেন।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি বলেন, “পত্রিকায় পড়েছি, কমনওয়েথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্টেলিয়ার পার্থ সফরের সময়ে এক অনুষ্ঠানে সেখানকার মেয়রকে বলেছেন, আমাদের দেশেও দুই-একদিনের মধ্যে একজন নারী মেয়র পাবো। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়- তিনি জানতেন নারায়ণগঞ্জে কে জিতবে।”

রোববার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন শহর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সোকে পৌর মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান ভোটের দিন বিকেলে কারচুপির অভিযোগ করলেও পরে তা তুলে নিয়ে বিজয়ী আইভীকে অভিনন্দন জানান।

শামীম প্রতিশ্র”তি দেন, ‘বড় ভাই’ হিসেবে তিনি ‘ছোট বোন’ আইভীকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন।

এ বিষয়টিতে ইংগিত করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “তিনি (শেখ হাসিনা) ভাই-বোনের নির্বাচন করেছেন। এ জন্যই সেনা মোতায়েনের অনুমতি দেননি।”

নির্বাচন কমিশন ভোটের আগে শুক্রবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জে সেনা মোতায়েনের নির্দেশনা দিলেও তা না হওয়ায় সরকার ও কমিশন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ভোট শুরুর মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে শনিবার গভীর রাতে সংবাদ সম্মেলন করে ‘কেন্দ্রের নির্দেশে’ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান মেয়র পদের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে সরকারের ‘আজ্ঞাবহ’ উল্লেখ করে ফারুক বলেন, “এই বিতর্কিত কমিশনের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। তাদের (কমিশনার) পদত্যাগ করতে হবে। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।”

হেরে যাওয়ার ভয়ে সরকার দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন দিচ্ছে না- এমন অভিযোগ করে বিরোধী দলের প্রধান হুইপ বলেন, “এখন করপোরেশনকে দুই ভাগ করে তারা নির্বাচন করতে চায়। তাদের উদ্দেশ্য দলীয় প্রার্থীকে ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে মেয়র হিসেবে বিজয়ী করা।”

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশ) আইন ২০০৯ এর সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করার মাধ্যমে বিষয়টি সংসদে তোলার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। এ প্রস্তাবে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (ডিসিসি) ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ নামে দুটি আলাদা করপোরেশন করার কথা বলা হয়েছে। উত্তরের করপোরেশনের আওতায় থাকবে ঢাকার ৩৯ ওয়ার্ড, আর দক্ষিণ পাবে ৫৬টি।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “পৃথিবীর সব বড় মহানগরীরই দেখভাল করছে একটি সিটি করপোরেশন। লণ্ডন, কলকাতাসহ ঐতিহ্যবাহী মহানগরীগুলো একটি করপোরেশনেরই অধীনে। আর বাংলাদেশে সরকার ডিসিসিকে ষড়যন্ত্র করে দুই ভাগ করছে।”

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবিতে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) আয়োজিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি আবুল হাশেম রানার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস মতিন প্রধান বক্তব্য রাখেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/জেকে/১৪৪৫ ঘ.