ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

শামীম আহমেদ
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ঢাকা, নভেম্বর ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ঈদের ছুটি শুরুর আগে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। আর তাদের ভোগান্তিও শুরু হয়েছে তখন থেকেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ রাজধানীর প্রধান প্রবেশপথগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

পরিবহন মালিক ও চালকরা জানান, রাতে যেসব গাড়ি বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে দীর্ঘ যানজটের কারণে সেগুলো এখনো ফিরতে পরেনি। ফলে ঢাকা থেকে থেকে বাস ছাড়তেও এখন দেরি হচ্ছে। ফলে সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন বাসের অপেক্ষায়।

এদিকে ‘শিডিউল বিপর্যয়ে’ ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রেন যাত্রীরাও। কমলাপুর রেল স্টেশন সকাল থেকে প্রতিটি ট্রেন ছেড়ে গেছে ৩ থেকে চার ঘণ্টা দেরিতে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মঈনুল হক চৌধুরী বেলা ১১টায় জানান, তিনি বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার ফকিরাপুল থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। সাড়ে ১২টার টিকেট কাটলেও যানজটের কারণে বাস আসতে দেরি হওয়ায় তার যাত্রা শুরু হয় রাত ২টার পর। কুমিল্লার দাউদকান্দি পার হতেই লেগে যায় ৮ ঘণ্টা।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ইউনিক সার্ভিসের চালক মোয়াজ্জেম হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পুলিশ জট কমানোর চেষ্টা করলেও খুব একটা কাজ হচ্ছে না। ঈদ সামনে রেখে অনেক বেশি গাড়ি রাস্তায় নামায় সামান্য এদিক-ওদিক হলেই জট বেঁধে যাচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে মহাসড়কে কুমিল্লা জেলার ৩০ কিলোমিটার এলাকায়, বিশেষ করে গৌরিপুর, মাধাইয়া ও চান্দিনা এলাকায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী সেতু এলাকা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটে নাকাল হতে হয় যাত্রীদের।

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের (পূর্বাঞ্চল) সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন সিকদার বলেন, মূলত সড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় যানজট তৈরি হয়েছে। তবে এরপরও ধীরগতিতে গাড়ি চলছে।

হাইওয়ে পুলিশের উপ মহা পরিদর্শক মো. হুমায়ূন কবির (ডিআইজি) মেঘনা সেতু এলাকা থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাসগুলো আগে যাওয়ার জন্য একে অপরকে ওভারটেক করার চেষ্টা করায় সেতু পারাপার হতে সমস্যা শুরু হয়। সেতুতে এক লেনে বাস চলাচলের ব্যবস্থা করায় জট কিছুটা কমেছে।”

কুমিল্লা চান্দিনা এলাকায় সওজের দশটি ট্রাক রাস্তা মেরামতের কাজে ছিল জানিয়ে হুমায়ূন কবির বলেন, “১০টি ট্রাক রাস্তায় থাকাতে এক লেনে চলাচলের জন্য যানজট সৃষ্টি হয়েছিল, তবে সকাল থেকে মেরামত বন্ধ করে দেওয়ায় দুই পাশে যান চলাচল শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।”

হাইওয়ে পুলিশের বিবেচনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঈদের সময় যানজটের প্রধান ছয়টি স্পট হচ্ছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তা, শনিরআখড়া হয়ে নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সংযোগস্থল, কুমিল্লার গৌরীপুর, ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনা ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড।

সায়েদাবাদ টার্মিনালের বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা শাহেদ আলী নামের এক সরকারি কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত বছর ঈদে এ ধরনের সমস্যা হয়েছিল। চট্টগাম পৌঁছাতে ১৪ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এবারও এ সমস্যায় পড়ে গেছি। ৩ ঘণ্টা ধরে বসে আছি, বাসের দেখা পাইনি।”

সোহাগ পরিবহনের মালিবাগ কাউন্টার থেকে রাশেদ হোসেন জানান, চট্টগ্রাম থেকে ফিরতি বাস আসতে এক থেকে ২ ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। আর খুলনা থেকে ফিরতি বাস আসতেও একই রকম দেরি হচ্ছে।

এদিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটের বাইপাস সড়কে একটি বাস এবং বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু সংযোগ সড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক বি এইচ মিল্কী বলেন, দুপুর ১২টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, করটিয়া থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে কয়েকশ’ গাড়ি আটকে আছে। এতে ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া রাবনা বাইপাস থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় গাড়ি চলছে ধীর গতিতে।

যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর থেকেই এ সড়কে যানজট শুরু হয় বলে বি এইচ মিল্কী জানান।

একটি দুর্ঘটনার কারণে কালিয়াকৈর-মির্জাপুর রুটে যানজট সৃষ্টি হয়েছিল জানিয়ে ডিআইজি হুমায়ূন কবির বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।

মহাসড়কের যানজট নিরসনে ১৫ শ’ পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রসাশন কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অবশ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সেক্রেটারি খোন্দকার এনায়েতউল¬াহর অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশ তৎপর না থাকাতেই ঈদের আগে এস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “দুর্ঘটনা কবলিত বাস সময় মতো সরাতে না পারায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।”

গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে চক্রবর্তী, কালিয়াকৈর, নবীনগর, কোনাবাড়িসহ ১৫/১৬টি পয়েন্টে যানজট ক্রমাগত বাড়ছে বলেও জানান চালকরা।

ট্রেনেও ‘শিডিউল বিপর্যয়’

ঈদে বাড়ির পথে রওনা দিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ট্রেনের যাত্রীদেরও। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে চট্টগাম ও সিলেটগামী ট্রেনগুলো সকাল থেকে ছেড়ে গেছে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা দেরিতে। উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোও বিলম্বিত হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনকালে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, নরসিংদীতে বুধবার ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার থেকে ট্রেন বিলম্বিত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ওপরও পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অবশ্য মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী পরিচালক (সেন্ট্রাল কন্ট্রোল) রেজাউল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, লালমনি এক্সপ্রেস ৭ ঘণ্টা বিলম্বিত হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ট্রেনও ছেড়েছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা দেরিতে।

ট্রেন সময়মতো না ছাড়ায় হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন রেল স্টেশনে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাকিব হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, কোনো ট্রেন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করা মাত্রই যাত্রীরা বগি আর ছাদে জায়গা দখল নিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু করে দিচ্ছেন। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা ট্রেনে উঠতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/জেকে/১৬৩৭ ঘ.