ক্যাটেগরিঃ bdnews24

কামাল হোসেন তালুকদার
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক

ঢাকা, নভেম্বর ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রাত পোহালেই কোরবানির ঈদ, তাই পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে মসলার পাইকারি দোকানে এখন উপচে পড়া ভিড়।

বাজার ঘুরে দেখা গেলো, এক এলাচ ছাড়া সব মসলাই তিন মাস আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হলেও ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, দাম ‘অনেক কমে গেছে’।

আর ক্রেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা এবার কৌশল হিসেবে মসলার দাম রোজার ঈদের আগে থেকেই বাড়িয়ে রেখেছে।

মৌলভিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েতুল্লা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মসলা আমদানিতে শুল্ক বেশি দিতে হয়। তাই চোরা পথে মাল আসছে। এভাবে এলাচ আর জিরাই বেশি আসছে। ফলে এ দুটো মসলার দাম কমে গেছে।”

এই ব্যবসায়ী নেতার অভিযোগ, “আমরা উচ্চ শুল্ক দিয়ে মাল আনি, ফলে খরচ বেশি হয়। কিন্তু কিছু লোক চোরা পথে মাল এনে বাজারকে ভারসম্যহীন করে দিচ্ছে।”

এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে মসলা আমদানির শুল্ক কমানোর জন্য ব্যবসায়ীরা কিছুদিন আগে চট্টগামে সাংবাদ সম্মেলন করেছেন বলেও জানান তিনি।

পাইকারি বাজারে মসলার দর

শনিবার মৌলভীবাজারে গিয়ে দেখা যায়, এলাচ ১২শ’ থেকে ২ হাজার টাকা, জিরা ৪৪০ টাকা, দারুচিনি ২৪০টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪৫০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ২৮০ টাকা, কালো গোলমরিচ ৮৬০ টাকা, জয়ফল ১২ শ’ টাকা, আলু বোখারা ৫৫০ টাকা, কিসমিস ৬ শ’ টাকা, পেস্তা বাদাম ৬২০ টাকা এবং শাহজিরা ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মৌলভীবাজার রোহান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মো. মজনু প্রথমে দাবি করলেন, গত বছরের তুলনায় সব মসলারই দাম কমেছে।

অথচ তিন মাস আগের দরের সঙ্গে তুলনা করলেও দেখা যায়, এলাচ ছাড়া বাকি সব মসলারই দাম বেড়েছে। জয়ফলের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০০ টাকা। রোজার ঈদের আগে যে লবঙ্গের দাম ছিল ৯শ টাকা কেজি, কোরবানির ঈদের এসে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ টাকায়।

গত বছরের মসলার বাজারের মূল্য তালিকা দেখানোর পর বিষ্মিত মজনু এই প্রতিবেদকদে বলেন, “গত বছরের দামও আপনার কাছে আছে!”

গত বছর কোরবানির ঈদে পাইকারি বাজারে এলাচ ২১ শ’ থেকে ২৪ শ’ টাকা, জিরা ৩৪০ টাকা, দারুচিনি ১৮০ টাকা, লবঙ্গ ৬০০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ৬২০ টাকা, কালো গোলমরিচ ৩৮০ টাকা, জয়ফল ৫৮০ টাকা, বড় এলাচ ২ হাজার ৪০০ টাকা, পাঁচফোড়ন ১৪০ টাকা, আলু বোখারা ৬০০ টাকা, কিসমিস ২৬০টাকা, পেস্তা বাদাম ৫২০ টাকা এবং শাহজিরা ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিলো।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে এনায়েতুল্লা রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মসলার বাজার চলে আর্ন্তজাতিক বাজারের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু চোরাই পথে মাল আসায় আমাদের আমারা ক্রয় খরচের চেয়ে কম দামে মাল বিক্রি করতে হচ্ছে।”

খুচরা বাজারের মসলার দর

শনিবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজারসহ বিভিন্ন কাজার ঘুরে দেখা যায়, এলাচ মানভেদে ১৬ শ’ থেকে ২৫ শ’ টাকা, জিরা ৫৫০ টাকা, লবঙ্গ ২১ শ’ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১৫ শ’ টাকা, কালো গোল মরিচ ১ হাজার টাকা, দারুচিনি ৩০০ টাকা, কিসমিস ৮০০ টাকা, জয়ফল ১৪ শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে দাম আরো বেশি।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা বাজারের খুচরা বিক্রেতা বাবুল আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিনমাস আগের তুলনায় এলাচ ছাড়া বাকি সব মসলার দাম বেড়েছে।”

“কাল (সোমবার) কোরবানির ঈদ, আজ রাতে দাম আরো বাড়তে পারে,” যোগ করেন তিনি।

দাম কমে গেছে- পাইকারি ব্যবসায়ীদের এমন দাবির কথা জানালে বাবুল বলেন, “কই, এলাচ ছাড়াতো আর কোনো মসলার দাম কমেনি।”

কামরাঙ্গীর চর মাদবর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়া বলেন, ভারতীয় এলাচ বাজারে আসায় এর দাম কিছুটা কমেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/কেটি/জেকে/১০২৫ ঘ.