ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, নভেম্বর ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নরসিংদীর পৌর মেয়র হত্যার ঘটনায় মামলা হওয়ার তিন দিন পরও আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করেছেন, সরকার আসামিদের ‘পালিয়ে যাওয়ার’ পথ করে দিচ্ছে।

রোববার সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “গুম, হত্যা ও খুনের মেশিনে পরিণত হয়েছে শাসকদল। নরসিংদীতে তাদের সন্ত্রাসীদের হাতে নিজেদের দলের পৌর মেয়র খুন হয়েছেন। নিহতের পরিবার মামলা করার পরও আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি।”

“সরকার এভাবে আসামীদের পালিয়ে যাওয়ার পথ করে দিচ্ছে,” যোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার রাতে নরসিংদী আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে মুখোশধারীদের গুলিতে আহত হন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র লোকমান হোসেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রাতেই তার মৃত্যু হয়। ওই রাতেই পুলিশ নরসিংদী জেলা বিএনপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

লোকমান হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগ মঙ্গলবার নরসিংদী শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাংচুর চালায়। বুধবার একটি ট্রেনও পুড়িয়ে দেয় তারা।

হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাতে লোকমানের ছোট ভাই মো. কামরুজ্জামান একটি মামলা করেন। এতে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ভাই সালাউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়, যাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী।

লোকমান হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার জেলার পুলিশ সুপার আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রত্যাহার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসবি) এনামুল কবীর ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয় বসাককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

এই পুলিশ কর্মকর্তাদের লোকমান হত্যা এবং ভাংচুর অগ্নিসংযোগের ঘটনার ‘মূল সাক্ষী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের প্রত্যাহার ও বদলি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, লোকমানের হত্যাকারীদের বাঁচাতেই খোকনকে গ্রেপ্তার করে তার ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে।

রুহুল কবীর রিজভী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো লোকমানের বাড়ি পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে। তাদের এ অবস্থা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সবক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, “ঈদে ঘরমুখো মানুষ ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। গত পরশু ঢাকা থেকে রওনা দিয়েও এখনো অনেকে বাড়ি পৌঁছাতে পারেননি বলে আমাদের কাছে খবর আসছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন রুটে ২০ থেকে ১৪ ঘণ্টা যানজটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।”

“ঈদেও সরকার জনগণকে স্বস্তি দিতে পারেনি,” যোগ করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সাংসদ নাজিম উদ্দিন, সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম উপস্থিত ছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/জেকে/১৩২০ ঘ.