ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, নভেম্বর ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ত্যাগের আহ্বান নিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে দেশে। পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরকার কলুষতাকে বলি দেওয়া ইসলামের শিক্ষা।

বাংলাদেশে ঈদুল আজহা ‘কোরবানির ঈদ’ নামেই পরিচিত। অবশ্য সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোববারও দেশের কিছু কিছু এলাকার মানুষ ঈদ উদযাপন করেছে।

রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত হয় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। সবার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি, কূটনীতিকরা জামাতে অংশ নেন।

বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদের প্রথম জামাত হয়। এরপর ১১টা পর্যন্ত পাঁচটি জামাত হওয়ার কথা।

রাজধানীতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) তত্ত্বাবধানে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ ৯০টি ওয়ার্ডে চারটি করে মোট ৩৬০টি এবং পলাশী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) খেলার মাঠ আলাদা দুটি ঈদ জামাত হচ্ছে।

ঈদের নামাজের পরপরই বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে পশু কোরবানি। এবার রাজধানীতে শেষ সময়ে গরু সরবরাহ কম থাকায় দাম ছিলো চড়া।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা মুসলিম স¤প্রদায়ের সুখ ও সমৃদ্ধিও কামনা করেন।

ঈদ উল আজহার শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে জিল্লুর রহমান তার বাণীতে বলেন, “আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ঈদ উল আজহা। তাওহীদের চেতনায় সর্বোচ্চ ত্যাগের দৃষ্টান্ত এ দিন। মহান আল্লাহর অভিপ্রায় বাস্তবায়নে হযরত ইব্রাহিম (আ.) যে গভীর আনুগত্য ও সীমাহীন ভক্তি প্রদর্শন করেছেন তা বিশ্বে অতুলনীয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ শিক্ষা ও আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে হবে।”

শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, “প্রিয়বস্তুকে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি লাভের যে অনুপম দৃষ্টান্ত হযরত ইব্রাহিম (আ.) স্থাপন করে গেছেন, তা বিশ্ববাসীর জন্য চিরকালই অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।”

খালেদা জিয়া তার বাণীতে বলেন, “স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা কোরবানির প্রধান শিক্ষা। হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-ক্রোধকে পরিহার করে সমাজে শান্তি ও স¤প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত হওয়া আমাদের কর্তব্য।”

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধান, মন্ত্রী ও উপদেষ্টা, বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ইস্কাটন গার্ডেনে লেডিস ক্লাবে বেলা সোয়া ১২টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

ঈদ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের প্রধান প্রধান ভবনে আলোক-সজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারাগার, ভবঘুরে কেন্দ্র ও এতিমখানাগুলো দেওয়া হবে বিশেষ খাবার।

ঈদ উপলক্ষ সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যালেনগুলো কয়েকদিন ধরে প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিসি/জেকে/১০১০ ঘ.