ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, নভেম্বর ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সাফটার আওতায় পণ্যবাণিজ্য শতকোটি ডলার অতিক্রম করলেও, এ পরিমাণ বাণিজ্য-সম্ভাবনার তুলনায় বেশ কম।

বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের আদ্দু দ্বীপে শুরু হওয়া সপ্তদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে তার ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সার্কের দিকনির্দেশনায় আঞ্চলিক লক্ষ্য পূরণে সাফটা (সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন-এসএএফটিএ) যাত্রা শুরু করলেও অর্থনৈতিক অর্জনের ক্ষেত্রে আরো বেশি কিছু করা প্রয়োজন বলে বিকেল ৫টার কিছু পর দেওয়া ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি পারস্পরিক সুবিধা ও উন্নতি বিষয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্বাসের ভিত্তিতে সিকি শতাব্দি আগে সার্কের যাত্রা শুরু হওয়ার কথাও ভাষণের শুরুতে মনে করিয়ে দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “সমমূল্যবোধ, লক্ষ্য ও উদ্যোগ ভাগাভাগির পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক অর্জনের একটি সম্ভাবনা হিসেবেও এখন সার্ককে দেখি আমরা। তাই এবারের শীর্ষ সম্মেলনের থিম ‘সেতুবন্ধ রচনা’ যথোপযুক্ত।”

“সার্কের নির্দেশনায় সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (এসএএফটিএ) ওই সব লক্ষ্য অর্জনে বিনম্র যাত্রা শুরু করে,” উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “কিন্তু আমরা সবাই একমত যে দীর্ঘ মেয়াদের বিবেচনায় বাণিজ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এবং এক্ষেত্রে আরো বেশি কিছু করা প্রয়োজন।”

“সাফটার আওতায় পণ্যবাণিজ্য শতকোটি ডলার অতিক্রম করলেও, এ পরিমাণ বাণিজ্য-সম্ভাবনার তুলনায় বেশ কম।”

দারিদ্র্য ও সন্ত্রাসবাদ

আদ্দু দ্বীপের ইকুইটোরিয়াল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন।

সার্কের নতুন চেয়ারম্যান হওয়ায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

আঞ্চলিক পুষ্টি নিরাপত্তার উপর জোর দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “গত বছর প্রস্তাবিত সার্ক বীজ ভাণ্ডার সম্পর্কিত একটি চুক্তি শিগগিরই স্বাক্ষর হবে। আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার্ক খাদ্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠার এক দশক পূর্তি হলেও এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি।”

দারিদ্র্য ও সন্ত্রাসবাদকে এ অঞ্চলের উন্নয়নের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নকে গতিশীল করতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্দ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দারিদ্য এবং সন্ত্রাসবাদকে বিদায় করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুণগত শিক্ষা অর্জনে সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলো একসঙ্গে কাজ করলে এ অঞ্চলের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় হবে।

অর্থনীতি

এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়েছে- এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অর্থনৈতিক কিছু চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবেলা করেছি। তবে এই অঞ্চলের বাইরের ঘটনাবলীর কারণে আমাদের অর্থনীতি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে।”

“বিশ্বব্যাপী খাদ্যের এবং জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি আর সেই সঙ্গে পরিবেশ বিপর্যয়জনিত কারণে ফসল উৎপাদনের নিু হার আমাদের জনগনের নিরাপদ জীবিকা অর্জনকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে।”

“পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাব আমাদের জীবন ধারণকে কঠিন করেছে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণসহ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত করেছে।” জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ নতুন ধারণা উদ্যোগ ও রূপকল্প নিয়ে এগিয়েছে যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এসব সাফল্যের অনেকগুলোই আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরো বিস্তৃত করা যেতে পারে।”

আন্তঃসংযোগ

জনগণের সামাজিক কল্যাণ ও সব ধরনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে সার্ক অঞ্চলে জনগণের যাতায়াত, পণ্য ও সেবার আদান-প্রদানে সহযোগিতা দিতে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদারে দক্ষিণ এশীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “কেবলমাত্র আন্তঃসার্কের মধ্যে বাস্তবিক সংযোগই নয় বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জনগণের অবাধ যাতায়াতের জন্য ওই সংযোগ এবং আমাদের সার্ক পরিবারভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শ্রমিকদের যাতায়াতের সুযোগ প্রয়োজন।”

এক্ষেত্রে তিনি ভ্রমণের ওপর বিধি-নিষেধ সহজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা অর্জন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এক নতুন অধ্যায় বিবেচনা করে অবশ্যই ভ্রমণ বিধি-নিষেধ শিথিল করতে হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/আরআরডি/পিডি/১৯২৪ ঘ.