ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, নভেম্বর ১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- জ্বালানি তেলের দাম আবারো বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেছেন, বর্তমান সরকার দুষ্ট মোড়লের মতো বার বার জনগণকে বিপদে ফেলছে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বর্তমান সরকারের চরিত্র গ্রামের দুষ্ট মোড়লের মতো। বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে, নির্যাতন চালিয়ে তাদের ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যত্র ফিরিয়ে রাখতে চায়। এক মাস দুই মাস পর পর জ্বালানি তেলে দাম বাড়াচ্ছে। গত রাতেও তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়েছে।”

“এভাবে জনগণকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলছে তারা,” যোগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জ্বালানি তেলের দাম আবারো বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েলের দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়ে করা হয় যথাক্রমে ৫৬ টাকা, ৫৬ টাকা, ৮৯ টাকা, ৮৬ টাকা ও ৫৫ টাকা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় রাত ১২টা থেকেই।

এ নিয়ে গত ছয় মাসে জ্বালানি তেলের দাম তিন দফা বাড়লো।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবীর খোকনের মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ফখরুল সিএনজির দাম বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সিএনজির দাম বাড়িয়ে ডিজেলের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

এর সমালোচনায় মির্জা ফখরুল বলেন, “খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে পরিবেশ রক্ষার জন্য যানবাহনে সিএনজির ব্যবহারের প্রচলন করা হয়েছিলো। এখন অর্থমন্ত্রী বলছেন, সিএনজির দাম ডিজেলের সমান করতে হবে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে পরিবেশ দূষিত হবে।”

সরকার বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও নরসিংদী জেলা সভাপতি খায়রুল কবীর খোকনকে ‘মিথ্য’ মামলায় জড়াচ্ছে- এমন অভিযোগ করে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “নরসিংদীর পৌর মেয়র খুন হওয়ার পর খোকনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হলেও আদালত তাকে অব্যহতি দেয়। এরপরও তাকে সার্কিট হাউজ ভাংচুর আর ট্রেনে আগুন দেওয়ার মামলায় আসামি করা হয়েছে।”

গত ১ নভেম্বর রাতে নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মুখোশধারীদের গুলিতে নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পুলিশ ঢাকা থেকে খোকনকে গ্রেপ্তার করে। ওই রাতেই নরসিংদী ছাত্রলীগ স্থানীয় সার্কিট হাউজ ও রেল স্টেশনে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। পরদিন একটি ট্রেনেও আগুন দেওয়া হয়।

লোকমান হত্যার ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন যাতে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ভাই সালাউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়।

আদালত বুধবার খোকনকে এই হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দিলেও ভাংচুর ও ট্রেনে আগুনের দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ফখরুল দাবি করেন, নরসিংদীতে যখন ডাকবাংলো ভাংচুর হচ্ছিল, খোকন তখন গুলিবিদ্ধ লোকমানকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আর ট্রেনে যখন আগুন দেওয়া হয়, তখন খোকন ছিলেন নরসিংদী কারাগারের সুপারের সামনে।

“সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। তারা খোকনসহ বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। এতে কোনো লাভ হবে না। আমি সরকারের প্রতি আহবান জানাবো, জনগণের মুখের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন”, যোগ করেন ফখরুল।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু সমাবেশে বক্তব্য দেন।

সমাবেশের পর খোকনের একটি মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/জেকে/১৪০১ ঘ.