ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, নভেম্বর ১৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দরিদ্র দেশগুলোকে দেওয়া সহায়তা কোন্ খাতে কীভাবে ব্যয় হয় সে বিষয়ে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো প্রতিশ্র”ত ‘স্বচ্ছতা’ রাখছে না বলে অভিযোগ করেছে এক পর্যবেক্ষক গ্র”প।

ব্রিটেনের দ্য পাবলিশ হোয়াট ইউ ফান্ড নামের এ গ্র”প ৫০টির বেশি দেশ ও সংস্থার ‘স্বচ্ছতা’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে মঙ্গলবার।

এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) সবচেয়ে বেশি ‘স্বচ্ছতা’ বজায় রেখেছে।

গ্র”পটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্রিটিশ দৈনিক ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক খবরে বলা হয়, ফ্রান্স, কানাডা ও নরওয়ের মতো কয়েকটি বড় দাতা দেশের দেওয়া আনুষ্ঠানিক সাহায্য সম্পর্কে তথ্য তুলনামূলক কম পাওয়া যায়।

ফ্রান্সের দেওয়া সাহায্যের ক্ষেত্রে শুধু দেশটির সাবেক উপনিবেশ আইভরি কোস্টে একটি প্রকল্প বিষয়ক তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত।

এটি হলো শিম্পাঞ্জি বিষয়ে ২০ বছর মেয়াদি একটি গবেষণা প্রকল্প। আফ্রিকার এ দেশটিতে সামরিক উপস্থিতির পাশাপাশি জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতাও রয়েছে ফ্রান্সের।

দ্য পাবলিশ হোয়াট ইউ ফান্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, “তথ্যের ঘাটতি সহায়তার প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয় … এমন এক সময়ে এটি হচ্ছে যখন ব্যয় কাটছাঁট করে বাজেট প্রণয়ন হচ্ছে এবং সহায়তার যৌত্তিক ভিত্তি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।”

এদিকে ‘স্বচ্ছতার’ বিবেচনায় প্রথম হওয়ায় তিনি আনন্দিত জানিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যারোলিন অ্যান্সটে বলেন, বিশ্ব ব্যাংক এক্ষেত্রে আরো উন্নতি করতে পারে।

আইডিএ স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের পাশাপাশি দরিদ্র দেশগুলোকে অনুদান দিয়ে থাকে।

‘প্রতিশ্র”তি লঘু করার চেষ্টা হচ্ছে’

সহায়তা আরো কার্যকর ও উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সরকারের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে দাতা সংস্থা ও দেশগুলোর এক সম্মেলনে।

পর্যবেক্ষক গ্র”পটি বলেছে, ওই সম্মেলনের শেষে যে ‘ঘোষণা’ আসবে সেটির খসড়ায় দেখা গেছে, আগের সম্মেলনে দেওয়া প্রতিশ্র”তি থেকে সরে আসতে চাইছে কোনো কোনো দেশের সরকার।

এর আগে আরো ‘স্বচ্ছতার’ পাশাপাশি সাহায্যের সঙ্গে প্রয়োজনী ক্রয় দাতা দেশ থেকে সম্পন্ন করার বিষয়টি ‘জুড়ে’ দেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার প্রতিশ্র”তি দিয়েছিল দাতারা। গ্রহীতা দেশের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা কাজে লাগানোর মধ্য দিয়ে আমলতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর প্রতিশ্র”তিও এসেছিল আগের সম্মেলনে।

দ্য পাবলিশ হোয়াট ইউ ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কারিন ক্রিস্টিয়ান্সেন বলেন, “স্বচ্ছতা বিষয়ক প্রতিশ্র”তিকে লঘু করে তুলতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কিছু দাতা সংস্থা ও দেশ চেষ্টা চালাচ্ছে।”

‘উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশ সোচ্চার হচ্ছে’

সহায়তা আরো কার্যকর ও উন্মুক্তকরণ মূল্যায়নে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের আয়োজক সংস্থার কর্মকর্তা রোবিন অগিলভি বলেন, আরো ‘ভালো’ সহায়তার জন্য গ্রহীতা দেশগুলো দাতাদের চাপ দিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশ সোচ্চার হয়ে উঠেছে এবং দরকষাকষি করছে।”

“সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশ, রুয়ান্ডা, মালি ও হন্ডুরাসের মতো দেশগুলো এক্ষেত্রে সক্রিয় রয়েছে।” যোগ করেন তিনি।

আন্তঃসরকারি সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর ইকোনোমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এ সম্মেলন আয়োজন করছে। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটির ৩৪টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে, ও জাপানও রয়েছে।

একই দেশে ‘স্বচ্ছতার’ হেরফের

কিছু কিছু দেশের একাধিক সংস্থার ‘স্বচ্ছতার’ মাত্রা একেক রকম বলে দ্য পাবলিশ হোয়াট ইউ ফান্ডের প্রতিবেদনে অভিমত দেওয়া হয়।

উদাহরণ হিসেবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলা হয়।

সেখানে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে তৈরি মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ অ্যাকাউন্ট ‘স্বচ্ছতা’ বিবেচনায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। সরকারের ‘ভালো’ বিবেচনা করে বিভিন্ন দেশকে সহায়তা দিয়ে থাকে মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে যাওয়া সহায়তা- যা প্রায়ই দেশটির রাজনৈতিক মিত্রদের কাছে যায়- ‘স্বচ্ছতার’ ক্ষেত্রে বেশ দুর্বল বলে মনে করে পাবলিশ হোয়াট ইউ ফান্ড।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএইচ/পিডি/২১১৫ ঘ.