ক্যাটেগরিঃ bdnews24

নয়া দিল্লি/ঢাকা, নভেম্বর ২২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- টিপাইমুখে বাঁধ হলেও তাতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে ভারত।

টিপাইমুখে প্রকল্প বাস্তবায়নে মণিপুর রাজ্য সরকারের সঙ্গে কয়েকটি কোম্পানির চুক্তির পর বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে মঙ্গলবার এ বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নয়া দিল্লির বক্তব্য পাওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরেক বিবৃতিতে বলেছে, অভিন্ন নদীর ওপর কিছু করতে হলে তা আগেই ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জানার অধিকার রয়েছে। নয়া দিল্লির এ ধরনের পদক্ষেপে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থেকে যায়।

বরাক নদীর ওপরে টিপাইমুখে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে মনিপুর রাজ্য সরকারের বিনিয়োগ চুক্তির খবর শুক্রবার বিবিসি প্রকাশ করলে তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা উঠে। বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে দেখা দেয় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

বিষয়টি জানার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর ব্যাখ্যা চেয়ে নয়া দিল্লিতে চিঠি পাঠায়। মঙ্গলবার তারই জবাব এলো।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, বুধবার এ বিষয়ে নয়া দিল্লির কাছ থেকে আরো তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে ভারতের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া মঙ্গলবার এক জনসভায় বলেছেন, সরকারের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্র নীতির কারণেই তা ঘটছে।

টিপাইমুখ প্রকল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।

টিপাইমুখ বাঁধের ফলে সম্ভাব্য ক্ষতির সম্মুখীন সিলেট অঞ্চলে ১ ডিসেম্বর হরতাল ডেকেছে স্থানীয় বিএনপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষক এ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের তোড়জোড়ের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছিলো। পরিবেশবাদীরা বলছেন, বরাক নদীর ওপর এ প্রকল্পের বিরূপ প্রভাব পড়বে সিলেট তথা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে।

বরাক নদীই বাংলাদেশে ঢুকে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি স্রোতধারায় বিভক্ত হয়। এ দুটি আবার এক হয়ে মেঘনা নদী নামে চাঁদপুরে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়।

বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে- এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে যে নিশ্চয়তা আগে দেওয়া হয়েছিলো তার ওপর ভরসা রাখতেও বলেছে নয়া দিল্লি।

বিবৃতিতে ২০১০ সালে শেখ হাসিনার ভারত সফর এবং এ বছর মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দেওয়া আশ্বাসের কথাও তুলে ধরা হয়।

২০০৯ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধি দলের ভারত সফরের কথা তুলে ধরে নয়া দিল্লির বিবৃতিতে বলা হয়, “ওই প্রতিনিধি দলকে এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছিলো, প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি হচ্ছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে এবং জলসেচের উদ্দেশ্যে এখানে পানি প্রত্যাহার করা হবে না।”

ভারতের বক্তব্য পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বরাকের মতো অভিন্ন নদীগুলোতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাটি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় বলছে, “বাংলাদেশ আশা করে, ভারত সরকার পুরো স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রস্তাবিত এ প্রকল্প বিষয়ে প্রাসঙ্গিক সব বিষয় এবং পরবর্তীতে যে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তা আগেই জানাবে। নইলে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থেকে যাবে।”

বরাক নদীর ওপরে টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে গত ২২ অক্টোবর কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি করে মণিপুর রাজ্য সরকার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “এ প্রকল্প নিয়ে সা¤প্রতিক অগ্রগতি হচ্ছে শুধু একটি যৌথ মালিকানার কোম্পানি (জেভিসি) গঠনে মণিপুর রাজ্য সরকার, এনএইচপিসি লিমিটেড ও সাতলুজ জলবিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের (এসজেভিএন) মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। ‘টিপাইমুখ হাইড্রোইলেকট্রিক কর্পোরেশন লিমিটেড’র নামে বা এর ধরনের বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অনুমোদিত অন্য কোনো নামে এ যৌথ মালিকানার কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হবে।”

টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন চেয়ে এ বছরের ৩১ মে ভারতের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের (এমওইএফ) কাছে প্রস্তাব পাঠায় মনিপুর রাজ্য সরকার।

মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলায় বরাক নদীর ওপর টিপাইমুখ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও ভাটি এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যের কথাও বলা হচ্ছে।

ভারত সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ কমিটির ছাড়পত্র পাওয়ার সাড়ে সাত বছরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এসএসজেড/এএইচ/এমআই/২৩১৪ ঘ.