ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, নভেম্বর ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি সরকারই টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে বলে দাবি করেছেন দলটির সহসভাপতি ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

এ নিয়ে সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।

টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে বদানুবাদের মধ্যে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ বলেন, “টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার কখনো ভারতের কাছে আপত্তি কিংবা ওই প্রকল্প বন্ধের উদ্যোগ নেয়নি। যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের সব কার্যবিবরণী দেখে আমি এই চ্যালেঞ্জ করছি।”

“এ বিষয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, তা মিথ্যাচার,” বলেন তিনি।

১৯৭২ সালে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের কার্যবিবরণী তুলে ধরে সাবেক এই পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, “তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিনিধি টিপাইমুখ প্রকল্পকে একটি উপকারী প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করে এটি দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিলেন।”

বনানীতে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প নিয়ে যৌথ নদী কমিশনের বিভিন্ন সময়ের বৈঠকের তথ্যও তুলে ধরেন।

বুধবার সংসদে ও বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য ভিত্তিহীন দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা আশা করবো, প্র্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার বন্ধ করে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে এই প্রকল্প বন্ধ করার উদ্যোগ নেবেন।”

হাফিজ বলেন, “১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল মেয়াদে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনটি যৌথ নদী কমিশনের (৩২, ৩৩ ও ৩৪তম) সভায় এই প্রকল্পের বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনার কথা কার্যবিবরণীতে নেই। অর্থাৎ ওই সময়েও আলোচনা হয়নি।”

“১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের সময়ে যৌথ নদী কমিশনের চতুর্দশ বৈঠকে প্রথম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প নিয়ে আপত্তির কথা জানানো হয়। ওই বৈঠকে এ প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের একটি যৌথ সমীক্ষা চালানোর প্রস্তাব করা হয়,” বলেন তিনি।

চারদলীয় জোট সরকারের পানিসম্পদমন্ত্রী হাফিজ বলেন, “খালেদা জিয়া টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প বন্ধে ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনটি চিঠি দেন। ১৯৯২ সালের ২৬ এপ্রিল, ১৯৯৫ সালের ২৭ মার্চ ও ২০০৩ সালের ১১ অগাস্ট। ওইসব চিঠিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।”

“২০০৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে যৌথ নদী কমিশনের ৩৫তম বৈঠকে আমি পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে বলেছি, টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প বাংলাদেশে পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনবে। এই প্রকল্প বন্ধের দাবিও জানিয়েছি। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন, আমি নাকি বলেছি, ‘ওই প্রকল্পে কোনো ক্ষতি হবে না’।”

২০০৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় যৌথ নদী কমিশনের ৩৬তম বৈঠকে ভারতের তখনকার পানিসম্পদমন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাস মুন্সির কথা উল্লেখ করে হাফিজ বলেন, “ওই বৈঠকেও আমরা প্রকল্পের বিরোধিতা করেছি। তখন ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্প চূড়ান্ত করার আগেই টিপাইমুখ বাঁধের নকশা বাংলাদেশকে দেওয়া হবে, যা এখনো ভারত দেয়নি।”

টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প বাংলাদেশের মেঘনা অববাহিকার বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য মহাবিপর্যয় বয়ে আনবে দাবি করে হাফিজ বলেন, “এই বাঁধ যাতে না হয় সেজন্য দলমত নির্বিশেষ সবার এক সঙ্গে আপত্তি জানানো উচিৎ।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/এএইচ/এমআই/২০৩৮ ঘ.