ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, নভেম্বর ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সরকার গঠনের প্রায় তিন বছরের মাথায় মন্ত্রিসভা দ্বিতীয় বার স¤প্রসারণ করলেন শেখ হাসিনা।

এতে নতুন মন্ত্রী হিসেবে যোগ হয়েছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও ওবায়দুল কাদের। এছাড়া পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে তাদের সঙ্গেই শপথ নিলেন পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সোমবার রাত সোয়া ৮টায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রীদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। অনাড়ম্বর এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব শেখ মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

১০ মিনিটের এ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেন ভূইয়া। শপথ হলেও নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর ঘোষণা সোমবার হয়নি।

তবে সরকারের দায়িত্বশীল এক সূত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছে, সুরঞ্জিতকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং হাছান মাহমুদকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী করা হচ্ছে। আর ওবায়দুল কাদের তথ্য কিংবা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যে কোনোটির দায়িত্ব পেতে পারেন।

নবম সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, গঠন করেন ৩২ সদস্যের মন্ত্রিসভা। এর ১৮ দিন পর মন্ত্রিসভায় আরো ছয় জন যোগ হন। এরও দুই বছর ১০ মাস পর শপথ নিলেন নতুন আরো দুই জন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত কয়েকদিন আগেই মন্ত্রিসভা ‘পুনর্মূল্যায়নের’ কথা বলেছিলেন। সরকারে পরিবর্তন আনার কথা কিছু দিন ধরে বলে আসছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরও।

স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সুরঞ্জিত এই প্রথম মতো মন্ত্রী হলেন। শেখ হাসিনার গত সরকারে তিনি মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী সুরঞ্জিত আওয়ামী লীগে যোগ দেন দেড় দশক আগে। এলএলবি ডিগ্রিধারী সুনামগঞ্জের বাসিন্দা সুরঞ্জিত মুক্তিযুদ্ধ করছেন ৫ নম্বর সেক্টরের সাব কমান্ডার হিসেবে।

সুরঞ্জিত ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন ন্যাপ থেকে। ১৯৭৯ সালের সংসদে ছিলেন একতা পার্টির প্রতিনিধি হয়ে। ১৯৯১ সালের সংসদে গণতন্ত্রী পার্টি থেকে নির্বাচিত হন তিনি। ছোট দলের বড় নেতা হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত সুরঞ্জিত আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য অন্য আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন তিনি।

দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সুরঞ্জিত ছিলেন পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তিনি।

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে সংস্কারের প্রস্তাব তোলাদের দলে সুরঞ্জিতও ছিলেন।

নির্বাচনের পর হাসিনার মন্ত্রিসভায় সুরঞ্জিতের মতোই ঠাঁই হয়নি ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে পরিচিত নেতা আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদেরও। পরে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকেও বাদ পড়েন তারা, স্থান হয় ‘ক্ষমতাহীন’ উপদেষ্টা পরিষদে। এদের মধ্যে থেকে শুধু সুরঞ্জিতই মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন।

ওবায়দুল কাদের হাসিনার গত সরকারে ছিলেন যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। বর্তমান সংসদের তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তিনি।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ দিন পালন করেছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।

নোয়াখালীর একটি আসনে ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাদের। ২০০৮ সালে দ্বিতীয় বার এলেন সংসদে। তার আগে জরুরি অবস্থার সময় কারাগারে যেতে হয়েছিলো তাকে।

হাসিনার সরকারে বৃহত্তর নোয়াখালী থেকে এখন একমাত্র মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

হাছান মাহমুদ এবারই প্রথম চট্টগ্রামের একটি আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হলেন।

বর্তমান হাসিনা সরকারে পূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন- মতিয়া চৌধুরী, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এ কে খন্দকার, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, শফিক আহমেদ, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, সাহারা খাতুন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, রেজাউল করিম হীরা, আবুল কালাম আজাদ, আ ফ ম রুহুল হক, দীপু মনি, আফছারুল আমীন, আব্দুর রাজ্জাক, এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, নূরুল ইসলাম নাহিদ, আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সৈয়দ আবুল হোসেন, ফারুক খান ও রমেশচন্দ্র সেন।

মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতা জিএম কাদের ও সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়–য়া।

প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- শামসুল হক টুকু, আব্দুল মান্নান খান, মো. মোতাহার হোসেন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মো. কামরুল ইসলাম, মো. শাহজাহান মিয়া, মাহবুবুর রহমান, মুস্তাফিজার রহমান ফিজার, দীপঙ্কর তালুকদার, এ বি তাজুল ইসলাম, মুন্নুজান সুফিয়ান, আহাদ আলী সরকার ও ইয়াফেস ওসমান।

প্রথম দফায় তানজিম আহমেদ (সোহেল তাজ) প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও পরে তিনি পদত্যাগ করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমকে/পিসি/বিএম/এসইউএম/এমআই/২১৪৫ ঘ.