ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, ডিসেম্বর ২২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে সংলাপ শুরু করছেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে এ সংলাপ শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন রাষ্ট্রপতি।

গত ১৮ ডিসেম্বর এই সংলাপের কথা রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঞার বক্তব্য অনুযায়ী, বঙ্গভবনে সকাল ১১টায় জাতীয় পার্টি এবং বেলা ১২টায় জাসদের সঙ্গে বৈঠক হবে।

এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি। তার দুই মাস আগেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি, আইন অনুযায়ী যিনি সাংবিধানিক ওই পদে নিয়োগ দেবেন।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।

রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের কাছে এখন নির্বাচন কমিশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আগামী নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হচ্ছে।

সংবিধান সংশোধনের ফলে এখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি হলেও বিএনপি বলে আসছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তন না হলে নির্বাচনে অংশ নেবে না তারা।

সংলাপের এই উদ্যোগকে বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বাগত জানালেও এটি সফল হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে এর আগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছিলো বর্তমান ইসি। তাতে বিরোধী দলের অংশ না নেওয়ার বিষয়টি ধরেই যে তার এই সংশয়, তা স্পষ্ট।

নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি আইনেরও প্রস্তাব করেছিলো গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে। বর্তমান সরকারের কাছেও সেই খসড়া দেওয়া হবে বলে জানিয়ে আসছে তারা।

সংলাপে রাষ্ট্রপতি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে এর বাইরে আরো কয়েকটি দল আমন্ত্রণ পেতে যাচ্ছেন বলে সংবাদপত্রের খবর।

রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব অবশ্য আগেই বলে রেখেছেন, “বাইরে বাকি যারা ‘ইম্পোর্টেন্ট’ তারাও আসবে।”

নির্বাচন কমিশনের কাছে বর্তমানে নিবন্ধিত দল রয়েছে ৩৮টি। এর মধ্যে আটটি দলের জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

এগুলো হলো- আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

নির্বাচন কমিশন নিয়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মতদ্বন্দ্বের জের ধরেই ২০০৬ সালে রক্তাক্ত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি অবস্থা এসেছিলো, যা জারি ছিলো টানা দুই বছর।

জরুরি অবস্থা জারির পর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন হয়। তখন বিদায় নেন বিতর্কিত কমিশনাররা, এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বে দায়িত্বে আসেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও এম সাখাওয়াত হোসেন।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনে সদস্য সংখ্যা তিন হলেও পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনে সিইসিসহ সর্বোচ্চ পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর আগে সর্বোচ্চ কত সদস্যের ইসি থাকতে পারবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিলো না।

স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৯ জন নির্বাচন কমিশনার ও ১০ জন প্রধান নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/এমআই/০০৪৫ ঘ.