ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

বরিশাল, ডিসেম্বর ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর চার ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন বরিশাল সদর উপজেলার দুই ছাত্রদল কর্মী।

চরবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. মাসুদ হাওলাদার ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী মাসুম শরীফ অভিযোগ করেছেন, পুলিশ পরিচায়ে সাদা পোশাকের লোকজন তাদের একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়।

অবশ্য র‌্যাব ও পুলিশ দাবি করেছে, ওই নামে কাউকে তারা আটক করেনি।

মাসুদের বড় ভাই চরবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম সাবু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, মাসুদ ও মাসুম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভাড়ায়চালিত একটি মোটর সাইকেলে কাগাশুরা বাজার থেকে শহরে আসছিলেন। পথে কাউনিয়া আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কলেজের সামনে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হওয়ায় তারা মোটর সাইকেল থামায়।

“সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ পরিচয়ে চার ব্যক্তি সেখানে এসে তাদের দুজনকে একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসে তোলে।”

রাত পৌনে ১২টার দিকে মুক্তির পর বাড়ি ফিরে আতঙ্কিত মাসুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মাইক্রোবাসে ওঠানোর পরপরই তাদের চড়, কিলঘুষি ও লাথি মারা শুরু হয়। মাইক্রোবাসটি নগরীর কালিজিরা সেতুর কাছে থামিয়ে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয় তাদের। এক পর্যায়ে ওই চারজন তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা দাবি করে।

“কিছুক্ষণ পরে আমতলা মোড়ে এসে আমাকে মোবাইল ফোন থেকে কাগাশুরা গ্রামের ভাড়ায়চালিত মোটর সাইকেল চালক রফিককে ফোন করতে বলে। ফোন পেয়ে রফিক সেখানে পৌঁছালে আমাদের মোটর সাইকেলে তুলে দেওয়া হয়। আমাদের হুমকি দেয়- ‘তোদের বিরুদ্ধে আবার অভিযোগ আসলে হাত-পা ভেঙে ফেলবো’।”

মুক্তির জন্য টাকা দিতে হয়নি বলে উল্লেখ করেন মাসুদ বলেন, যারা তাদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তারা সবাই ছিল সাদা পোশাকে।

অপহরণের খবর পেয়ে রাত ১০টার পর কাউনিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান মাসুদের ভাই সাবু। কিন্তু থানা থেকে তাদের সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

থানার এসআই আনোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই নামের কাউকে আটক করার কোনো খবর আমাদের কাছে আসেনি। সকাল পর্যন্ত তারা ফেরে কি না দেখে আমরা থানায় অভিযোগ করতে বলেছি।”

মাসুদ ও মাসুমকে আটক করা হয়েছে কি না জানতে রাতে র‌্যাব-৮ এ যোগাযোগ করা হলে ১ নম্বর কোম্পানির কমান্ডার মেজর রাশেদুল হক খান বলেন, তারা ওই নামে কাউকে আটক করেননি।

স¤প্রতি দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, যাদের লাশ পরে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন স্থান থেকে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অপহরণ কিংবা গুপ্তহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের হিসাবে, গত মাসে এভাবে ২৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে বিরোধী দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীও রয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/জেকে/১১১২ ঘ.