ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জানুয়ারি ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন, বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে আগামী নির্বাচন বর্জন করলে তা হবে একটি রাজনৈতিক ভুল।

বিবিসি রেডিওতে মঙ্গলবার প্রচারিত এক সক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করাই এই মুহূর্তে বিরোধী দলে প্রধান কাজ হওয়া উচিৎ।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ‘এমনিতে খারাপ নয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করায় প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার শরিকরা আন্দোলন চালিয়ে আসছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে তার দল আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে না।

এ প্রসঙ্গে টেনে বিবিসি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিল যে- বর্তমান সরকারের অধীনে পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়ার ব্যাপারে তিনি কতোটা আত্মবিশ্বাসী।

উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের সরকার বলে কোনো… ইলেকশন করবে ইলেকশন কমিশন। নতুন ইলেকশন কমিশন হবে। ইতোমধ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নিয়েছেন, তিনি সকলের মতামত নিচ্ছেন। মতামত নেওয়ার পর উনি যেভাবে ইন্সট্রাকশন দেবেন, সেভাবেই হবে। আমরা তো চাই, আমাদের বিরোধী দলও সেখানে যাক, তাদের মতামতটা দিক। তারা নির্বাচন কমিশনার কাকে চায়, কীভাবে চায়, তারা কীভাবে করতে বলে, সে মতামতটাও তারা দিতে পারে।”

“যদি তারা ইলেকশনে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে হয়তো তারা রাজনীতিতে ভুল করবে”, যোগ করেন তিনি।

বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে বিএনপির ‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি’ দেশের মানুষ মনে রেখেছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা বলেন, “মানুষ গণতন্ত্র চায়। গণতন্ত্র হরণ করার ষড়যন্ত্র মানুষ মেনে নেবে না।”

উচ্চ আদালত আরো দুইবার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় নির্বাচন করা যেতে পারে বলে যে মত দিয়েছিল- সরকার তা কেন নেয়নি জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বিবিসিকে বলেন, “হাইকোর্ট তো অর্ডার দেয়নি, অপশন দিয়েছিল যে- ‘করা যেতে পারে’। আমরা হাইকোর্টের যে মূল রায়টা, সেটাই বাস্তবায়ন করেছি।”
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা না রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০০৭-২০০৯ সময়ে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর দায়িত্ব পালন এবং সেই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দমন পীড়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “শেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যেটা হলো- এই যে দুই বছর থাকা, জেল জুলুম, মাইনাস টু ফর্মুলা- আমি জানি না, বিরোধী দলীয় নেতা কীভাবে ভুলে গেলেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে তিনি কীভাবে নিগৃহীত হয়েছেন, তার ছেলেদের মেরে মুচলেকা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো, সেগুলো এখনো দুর্নীতি দমন কমিশনে চলছে।”

“তারপরও উনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চাচ্ছেন, আবার কোনো তত্ত্বাধায়ক সরকারের আমলে যে একই ঘটনা ঘটবে না, এই গ্যারান্টি কে দেবে”, প্রশ্ন রাখেন হাসিনা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/জেকে/১০৩০ ঘ.