ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, জানুয়ারি ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীর ‘মৃত্যু কামনা’ মামলায় আদালতের নির্দেশে হাজির না হওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহাম্মদ রুহুল আমীন খন্দকারকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত এই শিক্ষককে দেশে ফেরাতে এবং তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।

তবে তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর ‘মৃত্যু কামনা’ বিষয়ে এ দিন আদেশ দেয়নি হাইকোর্ট।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আলতাফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হয়ে আদালত অবমাননা করায় তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তার মূল রুলের বিষয়ে হাইকোর্ট পরে রায় দেবে।”

তিনি জানান, আদালত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছে। আর তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ মহা পরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত রুহুল আমীন যাতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন, সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আদালতের রায়ের বিষয়টি অস্ট্রেলিয়া সরকারকে জানিয়ে তাকে ফেরত পাঠাতেও অনুরোধ জানাতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির খণ্ডকালীন প্রভাষক রুহুল ২০০৮ সালে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পান। ২০০৯ সালে বিনা বেতনে শিক্ষা ছুটিতে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় যান।

গত ১৩ অগাস্ট মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান সম্পাদক মিশুক মুনীরসহ পাঁচ জনের মৃত্যুর পর ফেইসবুকে এক স্ট্যাটাস আপডেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘মৃত্যু কামনা’ করেন রুহুল।

১৩ অগাস্ট সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে ফেইসবুক ওয়ালে পোস্ট করা একটি স্ট্যাটাসে লেখা ছিল, “পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার ফল তারেক ও মিশুক মুনীরসহ নিহত ৫: সবাই মরে, হাসিনা মরে না কেন?”

পরদিন ভোর ৪টা ৫৯ মিনিটে দেওয়া আরেক স্ট্যাটাসে লেখা ছিল, “পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স! কোনো সভ্য সমাজে কি চিন্তা করা যায়? পুরো পৃথিবী যেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন করছে, সেখানে হাসিনা সরকার পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দিচ্ছে !!!”

ওই স্ট্যাটাস নিয়ে ১৮ অগাস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘জাবির জামায়াতপন্থী শিক্ষকের ঔদ্ধত্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদ আদালতের নজরে নেওয়ার পর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। রুলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

পরে ২৫ অগাস্ট অন্য এক আদেশে হাইকোর্ট ১৭ অক্টোবর ওই শিক্ষককে আদালতে আসার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত নোটিস জারি করতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ১২ ডিসেম্বর আলতাফ হোসেন আদালতকে জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথভাবে নোটিস জারির পরও ওই শিক্ষক আদালতে হাজির হননি।

এরপর ওইদিন হাইকোর্ট ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে। কেন তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএন/জেকে/১২৫০ ঘ.