ক্যাটেগরিঃ bdnews24

মঈনুল হক চৌধুরী ও শহীদুল ইসলাম
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

কুমিল্লা, জানুয়ারি ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- কুমিল্লার নির্বাচনে ইভিএমে জনগণের আস্থার প্রকাশ ঘটেছে জানিয়ে ইসি বলছে, এখন জাতীয় নির্বাচনেও ভোটগ্রহণের যান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে এগোনো যায়।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পুরোপুরিই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হয়। এই প্রথম দেশে কোনো নির্বাচনে ব্যালট পেপারের বিষয়টি ছিল না।

ভোটাররা যেমন ইভিএম নিয়ে সন্তোষের কথা জানিয়েছেন, তেমনি ইভিএমের কারণেই ভোটগ্রহণের পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করা গেছে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুরো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের এ সফলতা প্রমাণ করেছে, মানুষ এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছে। আগামীতে এর দ্রুত প্রসারে স্থানীয় পর্যায়ে আরো ব্যবহার করতে হবে।”

ইভিএমের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদার যুক্তি, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে সহজতর, ফল ঘোষণা তাড়াতাড়ি করা, নির্বাচনোত্তর সহিংসতা কমানো, নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় কমানো ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোসহ আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এই উদ্যোগ।

বর্তমান ইসি বিদায় নিলেও আগামী জাতীয় নির্বাচন ইভিএমে করার প্রস্তুতি রেখে যাওয়া হচ্ছে বলে আগেই জানিয়েছেন শামসুল হুদা।

সনাতন পদ্ধতিতে নির্বাচনে ব্যালট পেপার গণনায় অনেক সময় লাগতো, এছাড়া হাতে গণনায় ভুল হলে পুনঃগণনা করতে হতো, যাতে বেশ সময় লাগতো। ফলে ভোটের ফল প্রকাশে গভীর রাত হয়ে যেত। এর পাশাপাশি ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের বিষয়গুলোও ছিল।

তবে ইভিএমে এই জটিলতাগুলো নেই বলেই দাবি করছেন ইসি কর্মকর্তারা। ছহুল বলেন, “ফল দেরিতে ঘোষণার নামে ফল পাল্টানো কিংবা বারবার ভোট গণনার নামে বিলম্ব করার সুযোগ ইভিএমে নেই।”

কুমিল্লার নির্বাচনে বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষে সাড়ে ৫টা থেকেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ফলাফল আসতে শুরু করে।

সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় ফল ঘোষণা শুরু করে ৬৫টি কেন্দ্রের মেয়র পদের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা শেষ হয় রাত সাড়ে ৮টায়। এরপর রাত পৌনে ১০টার মধ্যে কাউন্সিলরদের চূড়ান্ত ফলও ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন।

ইভিএমে আরো কম সময় লাগার কথা বিশেষজ্ঞরা বলে এলেও এক্ষেত্রে আরো আগে ফল ঘোষণা হয়নি কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রতিটি কেন্দ্রেই আধা ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থীর এজেন্টরা ভোটের ফল পেয়ে গেছেন। তবে যাবতীয় কাজ সেরে দায়িত্বশীলদের নিয়ে কেন্দ্রের ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনতেই সময়টা ব্যয় হয়েছে। তারপর প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীর নামের সঙ্গে প্রাপ্ত ভোট ঘোষণার কারণে এই তিন-চার ঘণ্টা সময় লেগেছে।”

ইসির উপসচিব বাতেন মনে করছেন, আগামীতে আরো তৎপর হলে আরো কম সময়ে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা সম্ভবপর হবে।

চট্টগ্রামে একটি এবং নারায়ণগঞ্জে নয়টি ওয়ার্ডে সাফল্যের পর কুমিল্লায়ই ২৭ ওয়ার্ডের ৬৫ কেন্দ্রের সবকটিতে নির্বাচন হয় ইভিএমে।

ইভিএম নিয়ে কুমিল্লার ভোটারদের মুখে কোনো সমস্যার কথা শোনা যায়নি। ইভিএমে আপত্তি জানিয়ে আসার বিএনপি থেকে অব্যাহতি নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী মনিরুল হক সাক্কুও বলেছেন, তার কোনো সমস্যা হয়নি।

কুমিল্লার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে সময় বাঁচানোর আরো সুযোগ তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করেন ইভিএমের দেখভালকারী বুয়েটের আইআইসিটি পরিচালক অধ্যাপক লুৎফুল কবীর।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইভিএমে অনেকে খাপ খাওয়াতে না পারায় ভোটের শুরুতেও কোথাও কোথাও বিলম্ব হয়। তবে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা থাকায় কুমিল্লায় তার পুনরাবৃত্তি কম হয়েছে।”

ফল ঘোষণার সময় আরো কমানোর ক্ষেত্রে লুৎফুল কবীরের পরামর্শ- আধা ঘণ্টায় কেন্দ্রে ফল দেওয়ার পর সব সামগ্রী নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আসার আগে বিশেষ বাহক মারফত বিশেষ পরিবহনযোগে ফল পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকলে আরো দ্রুত ফল ঘোষণা সম্ভব হবে।

আগামীতে প্রযুক্তিগত আরো সুবিধা নিয়ে সব কেন্দ্রে নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা চালু হলে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তা ফল দিতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট শেষে দ্রুত ফল পাওয়ায় সন্তুষ্ট কুমিল্লার ভোটার আশরাফ হোসেন রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামীতে ইভিএমে ভোট হলে দেশে শান্তি আসবে। কোনো মারামারি, দখলবাজির কোনো সুযোগ থাকবে না।”

ইভিএমে আপত্তি জানিয়ে আসা বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করলেও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশে প্রথম নির্বাচনে হার হয়েছে সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীর। সিইসি বলেছেন, কুমিল্লার নির্বাচন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/এসআই/এমআই/১১৩০ ঘ.