ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা/চট্টগ্রাম, জানুয়ারি ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দলের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঠিক করে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোড মার্চ শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

রোববার সকালে রোড মার্চ শুরুর ১৪ ঘণ্টা আগে শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সসদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা। বৈঠকে কর্মসূচি ঠিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

রোড মার্চ করে চট্টগ্রাম যাওয়ার পর সোমবার বন্দর নগরীর পলোগ্রাউন্ডে জনসভায় খালেদার নতুন কর্মসূচি ঘোষণার কথা রয়েছে।

কর্মসূচি কী ঠিক হয়েছে- জানতে চাওয়া হলে বিএনপি নেতারা না বললেও রাজশাহী অঞ্চলের রোড মার্চে খালেদা ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, “প্যাকেজ কর্মসূচি ঠিক হয়েছে।”

“চেয়ারপারসন চট্টগ্রামের মহাসমাবেশেই কর্মসূচি ঘোষণা করবেন,” বলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গেও আলোচনায় বসে খালেদা জিয়া। আগের মতো চট্টগ্রাম রোড মার্চেও এই দলগুলোর নেতারা অংশ নেবেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা অভিমুখে রোড মার্চের পর চট্টগ্রাম রোড মার্চ করছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলোপের পর থেকে বিএনপির অর্ন্তর্বতীকালীন এই ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

শনিবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন কী? খাল কেটে কুমির আনার দরকারটা কী?”

“তত্ত্বাবধায়ক এলেই যে বিএনপিকে চ্যাং দোলা করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে তা নয়, বরং আবারো জেলের ভাত খেতে হতে পারে,” খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন হাসিনা।

রোববার সকাল ১০টায় নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ৪ হাজার গাড়ির বহর নিয়ে রওনা হবেন তিনি। পথে আরো ২ হাজার গাড়ি যোগ হবে বলে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান।

চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে রোববার কুমিল্লার চান্দিনার মাধাইয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠ, চান্দিনার মানিকচরের নুর মসজিদ মাঠ এবং কুমিল্লা শহরের পাশে পদুয়ার বাজারে মোট তিনটি পথসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। পরদিন চট্টগ্রাম পৌঁছার আগে বিকালে ফেনী পাইলট হাইস্কুল মাঠে জনসভা করবেন তিনি।

খালেদার রোড মার্চের দুই দিনের কর্মসূচি ইন্টারনেটে সরাসরি প্রচার হবে www.bnplive.com এই ঠিকানায় তা দেখা যাবে।

রিজভী বলেন, “এ যাবতকালে সর্ববৃহৎ রোড মার্চ হবে এটি। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে ব্যাপক মানুষের সমাবেশ ঘটবে বলে আমরা আশা করছি। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে জনমত গড়ে উঠবে।”

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন উপজেলায় রোড মার্চের প্রচার চালাতে গিয়ে বাধা পেয়েছে বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

রোড মার্চ ও পলোগ্রাউন্ডের জনসভা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম বিএনপিও। তারা আশা করছেন, জনসভায় ২০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “রোডমার্চ একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার এ সুষ্ঠু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেবে না।”

জনগণকে সম্পৃক্ত করে শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিতে চট্টগ্রামবাসী ব্যাপক সাড়া দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন চট্টগ্রামের জনসভা থেকে আগামী দিনের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন। এ রোড মার্চের সাফল্য নিয়ে জনগণ ও বিএনপি নেতবৃন্দের কোনো সন্দেহ নেই।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/এমসি/এমআই/০০০০ ঘ.