ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, জানুয়ারি ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সরকার সেনা কর্মকর্তাদের গুম করছে বলে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার করা অভিযোগকে উস্কানিমূলক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছে সশস্ত্র বাহিনী।

মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত তার (খালেদা জিয়া) এ বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক। এর দ্বারা সেনাবাহিনীর ন্যায় একটি জাতীয় শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়েছে।”

সোমবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, সরকার সেনা কর্মকর্তাদের ‘গুম’ করছে।

তিনি বলেন, “সরকার কেবল দমননীতিই নয়, গুম ও গুপ্ত হত্যার মাধমের বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করছে। কেবল তা-ই নয়, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদেরও গুম করা হচ্ছে।”

আইএসপিআর পরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক মো. নূর ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এ ধরনের অসত্য, উস্কানিমূলক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য বিরোধী দলের নেতার দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তিত্বের নিকট হতে জাতি প্রত্যাশা করে না।”

সেনাবাহিনী সুনির্দিষ্ট সেনা আইন দ্বারা পরিচালিত হয় উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, “এর ব্যত্যয় ঘটলে সেনা আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়- এটাই আইনের বিধান। এখানে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

“সেনা আইনে সংশ্লি¬ষ্ট কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গৃহীত হলে সেনাবাহিনী ধ্বংস হয় না বরং আরো সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী পেশাদারী বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।”

বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে ‘ধ্বংসের’ অভিযোগও আনেন।

তিনি বলেন, “বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) মতো সেনা বাহিনীকেও ধ্বংস করে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। বিডিআর সদরদপ্তরে খুন হওয়া ৫৭ সেনা কর্মকর্তার বিচার তিন বছরেও সরকার করতে পারেনি।”

“অনেক সেনা কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, অনেককে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে”, দাবি করে খালেদা বলেন, “উদ্দেশ্য একটাই আমাদের সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়ে নামমাত্র একটি সেনাবাহিনীতে পরিণত করা।”

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্র“য়ারি ঢাকার পিলখানা সদরদপ্তরে বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ অন্তত ৭৩ জন নিহত হন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআই/আরএ/জিএনএ/১৭২২ ঘ.