ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

মঈনুল হক চৌধুরী
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ঢাকা, জানুয়ারি ১৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে উচ্চতর আদালতের দুই বিচারক এবং তিন সাংবিধানিক সংস্থার প্রধানকে নিয়ে সার্চ কমিটি করতে মন্ত্রি পরিষদে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপ শেষ হওয়ার পরই এ প্রস্তাব পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সংলাপ থেকে পাওয়া মতামতগুলো সারসংক্ষেপ আকারে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগে বৃহস্পতিবার পাঠানো হয়। এতে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন ও আইনি বিধান প্রণয়নের কথা তুলে ধরা হয়েছে।”

সাবেক মন্ত্রি পরিষদ সচিব ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলী খান সার্চ কমিটি প্রসঙ্গে বলেন, অতীতে দুর্নীতি দমন কমিশন ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গঠনেও সার্চ কমিটি কাজ করলেও অভিজ্ঞতা ভালো নয়।

অতীতে এসব কমিটি ভালোভাবে কাজ করেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সার্চ কমিটির সুপারিশ নিয়ে সংসদীয় শুনানি হওয়া উচিত।”

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়ার পর প্রজ্ঞাপন আকারে অথবা আইনগত বিষয়াধি সম্পন্ন করতে আইন মন্ত্রণালয়ে তা পাঠানো হবে বলে জানান রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব। সার্চ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

রাষ্ট্রপতির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, রোববার পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পৌঁছেনি।

এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আগামী মাসের মাঝামাঝি শেষ হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন রাজনৈতিক দলগুলোর মত নেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সংলাপে ২৩টি দল অংশ নেয়।

‘প্রজ্ঞাপন জারিতে ১০ দিনের বেশি নয়’

প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি হবে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান শফিউল আলম।

তিনি বলেন, “মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাই কোর্টের একজন বিচারপতিকে কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হবে।”

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব জানান, সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে একটি রূপরেখাও রাষ্ট্রপতির সুপারিশে রয়েছে।

তিনি বলেন, “তবে সংবিধানের আলোকে আইন প্রণয়নের বিষয়ে ধারণাপত্র দেওয়া না হলেও বিষয়টি প্রয়োজন হলে আইন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।”

সংবিধানে সিইসি ও ইসি নিয়োগে ‘আইনের বিধানাবলী’ প্রণয়নের কথা থাকলেও গত ৪০ বছরে তা হয়নি।

‘যথাযথ প্রক্রিয়া’ শেষে সার্চ কমিটি গঠনে প্রজ্ঞাপন জারি করতে ১০ দিনের বেশি সময় প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাষ্ট্রপতি যে ধরনের সুপারিশ করবেন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সার্চ কমিটি গঠনের সুপারিশ এলে রূপরেখা অনুযায়ী ১৪ ফেব্র“য়ারির মধ্যে তা করতে অসুবিধা হবে না।”

সংবিধানের আলোকে আলাদা আইন করতে হলে তা সংসদে পাস করতে হবে। আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে সংসদের দ্বাদশ অধিবেশন শুরু হচ্ছে।

সিইসি-ইসির অযোগ্যতা

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের উদ্দেশ্যে বাছাই করার জন্য অনুসরণীয় বিধান’ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এক্ষেত্রে সিইসি ও ইসির অযোগ্যতা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

সিইসি ও ইসি হিসেবে অযোগ্য বিবেচনা করা হবে তাদের যারা (১) সাধারণভাবে সৎ ও বৈধ আয়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে বিবেচিত নয় (২) জাতীয় বা আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের বা অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় সদস্য হন (৩) তিনি কোনো দলের মনোনয়নের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকেন এবং (৪) ঋণখেলাপি হন।

নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুজনের নাম সুপারিশ করবে সার্চ কমিটি।

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে সর্বোচ্চ পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠনের সুযোগ রয়েছে।

সংলাপে যত দল

ইসি গঠন নিয়ে ২২ ডিসেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩টি দলের মতামত নেন রাষ্ট্রপতি। এ সংলাপে জাতীয় পার্টি-জাপা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশে সাম্যবাদী দল (এমএল), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ, গণতান্ত্রিক ইসলামিক ঐক্যজোট, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতালী, জাকের পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অংশ নেয়।
এ সংলাপে অধিকাংশ দলই সংবিধান অনুসারে সিইসি ও ইসি নিয়োগে আলাদা আইন করা বা অনুসন্ধন কমিটির পক্ষে মত দেয়।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি যা করবেন তাতে সমর্থন দেওয়ার কথা জানায়। বিরোধী দল বিএনপি জানায়, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার আগে ইসি গঠন নয়।

তবে ক্ষমতাসীন দলের শরিক জাতীয় পার্টি ও বিরোধী দলের সমমনা বিকল্পধারা বাংলাদেশ বর্তমান ইসির মেয়ার বাড়ানোর প্রস্তাব করে।

সংলাপে বিএনপির তোলা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল দাবি বিষয়ে রাষ্ট্রপতি জানিয়ে দেন, ইসি গঠনের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। তত্ত্বাবধায়কের বিষয়টি সংসদের।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব জানান, মন্ত্রি পরিষদ বিভাগে সার্চ কমিটি বা আইন প্রণয়নের বাইরে অন্য কোনো প্রস্তাব রাখা হয়নি। বর্তমান ইসি মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ নেই।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/পিডি/১৯১৪ ঘ.