ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জানুয়ারি ১৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে জমি কেনায় ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক কমিশনার মুহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপপু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সোমবার সকালে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে কমিশন।”

এতে ৩৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, রাজনৈতিক সচিবের এপিএস জিয়াউল ইসলাম (মুন্না) ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার এপিএস মনিরুল ইসলাম খানকেও আসামি করা হয়েছে এ মামলায়।

মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আজই (সোমবার) আদালতে দাখিল করা হবে।”

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিতে যাচ্ছে দুদক।

গত বছরের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় দায়ের করা এ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

দুদকের অনুমোদিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা এসেছে অবধৈ উৎস থেকে।

মামলায় বলা হয়, ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শাখায় ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে একটি হিসাব খোলা হয়। এতে ৭ দিনের মধ্যে জমা হয় ৭ কোটি ৮০ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা। এর মধ্যে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা বিএনপির দলীয় তহবিল থেকে আসে।

বাকি টাকার মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেড এবং ২৭ লাখ টাকা জিয়াউল ইসলামের কাছ থেকে ওই হিসাবে আসে।

দুদকের অভিযোগ, বিএনপির দলীয় ফান্ডের টাকা ছাড়া বাকি টাকার কোনো বৈধ উৎস নেই। তখনকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার দাপ্তরিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে ওই অর্থ সংগ্রহ ও জমা করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এফ এস জাহাঙ্গীর ট্রাস্টে টাকা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার এপিএস মনিরুল ইসলাম মেট্রো মেকার্সের নাম ব্যবহার করে ওই অর্থ জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে মনিরুল ইসলাম দুদককে বলেছেন, হারিছ চৌধুরীর দেওয়া টাকা পে অর্ডারের মাধ্যমে তিনি ওই হিসাব নম্বরে জমা দিয়েছেন। একইভাবে জিয়াউল ইসলামও বলেছেন, নির্দেশ ছিল বলেই তিনি টাকা জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে চার দফা চিঠি দেওয়া হলেও তিনি আসেননি বলে উল্লেখ করেছে দুদক।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিসি/জেকে/১১৩০ ঘ.