ক্যাটেগরিঃ bdnews24

লিটন হায়দার
অপরাধ বিষয়ক প্রধান প্রতিবেদক

ঢাকা, জানুয়ারি ১৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে কালক্ষেপণের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতে ইসলামীর তাত্ত্বিক নেতা গোলাম আযমকে হাসপাতালে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুদিন আগে তার এমআরআই করার কথা থাকলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত তা হয়নি। একদিন আগে তার এক্সরে হলেও তা দেখেননি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।

এ সব নিয়ে মেডিকেল বোর্ড, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কারা কর্তৃপক্ষ একে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে বক্তব্য দিচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতাকারী এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আযমকে গত ১১ জানুয়ারি (বুধবার) কারাগারে পাঠানোর দিনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়।

এরপর থেকে গোলাম আযম হাসপাতালেই রয়েছেন। তার চিকিৎসার জন্য গঠিত হয়েছে একটি মেডিক্যাল বোর্ড।

কোমরে ব্যথার কারণে মেডিকেল বোর্ড গোলাম আযমের এমআরআই করার পরামর্শ দেয় গত রোববার। একইসঙ্গে এক্সরে করতেও বলা হয়।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া মঙ্গলবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সোমবার দুপুরে শুধু এক্সরে করা হয়। হাসপাতালের এমআরআই মেশিন নষ্ট থাকায় গোলাম আযমকে বাইরের হাসপাতালে নিতে হবে বলে কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এমআরআই’র পরামর্শ দেওয়ার পর গোলাম আযমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আমান আজমি মেডিকেল বোর্ডকে জানান, তার বাবার স¤প্রতি করা একটি এমআরআই প্রতিবেদন রয়েছে।

তখন সেই প্রতিবেদন আনতে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কর্মকর্তা আজমিকে বলা হয়।

নতুন করে এমআরআই করতে হবে কি না, তা পুরনো প্রতিবেদন দেখে বলা যাবে জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তারা ওই প্রতিবেদন পাননি।

“বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। না পাওয়া গেলে বৃহস্পতিবার তার এমআরআই করা হবে,” বলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ।

গোলাম আযমের চিকিৎসায় দেরির বিষয়ে দায় এড়িয়ে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি শুধু ব্যবস্থাপত্রে পরামর্শ দিয়েছি। এর বেশি করার কিছু আমার নেই।”

সোমবার গোলাম আযমের এক্সরে করা হলেও অর্থোপেডিকসের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এখনো তা দেখেননি বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক। চিকিৎসক বুধবার তা দেখতে পারেন বলে জানান তিনি। তবে এক্সরে প্রতিবেদন মেডিকেল বোর্ডের প্রধান দেখেছেন।

এমআরআইয়ে দেরির বিষয়ে পরিচালক বলেন, গোলাম আযমকে বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত।

এই বন্দোবস্তু করার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয কারাগারের কারাধ্যক্ষ মাহবুবুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এমআরআই করাতে গোলাম আযমকে বাইরে নেওয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের লিখিতভাবে কিছুই জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, “হাসপাতালে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে দুপুরেও আমি টেলিফোনে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, এই মুহূর্তে এমআরআই করার প্রয়োজন নেই।”

কারাধ্যক্ষ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা জানালেও হাসপাতালের পরিচালক বলেছেন, এই ধরনের কোনো কথা হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কারা কর্তৃপক্ষকে বলেনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বললে বাইরে নিয়ে এমআরআই করানোর ব্যবস্থা কারা কর্তৃপক্ষ করবে বলে জানান কারাধ্যক্ষ।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে থাকা গোলাম আযমকে কী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান বলেন, তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, প্রস্টেট গ্রন্থিতে সমস্যা রয়েছে, বাতজনিত সমস্যা রয়েছে, গ্যস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে।

এ সব সমস্যার জন্য হাসপাতালে থাকা প্রয়োজন কি না- জানতে চাওয়া হলে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, “এগুলো বয়স হলে অনেকের ক্ষেত্রেই হয়। দেখি, এমআরআই প্রতিবেদন আসুক।”

নতুন কোনো সমস্যা ধরা না পড়লে গোলাম আযমকে কারাগারে পাঠানোর কথাই বলা হবে বলে জানান তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এলএইচ/এমআই/১৮২৫ ঘ.